পাল্টাপাল্টি দোষারোপের খেলা, দূষিত খালে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের কথায়, "আমাদের উন্নয়নের ধরন এমন, যেখানে নদীগুলোকে বর্জ্য ফেলার জায়গা হিসেবেই দেখা হয়।" এই কথার সাক্ষ্য মিলেছে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বারপাড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের গুংগাইজুরি খালে। কুমিল্লা শহরের উনাইশা এলাকার ইপিজেডের বর্জ্য পানি প্রাচীরের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে বিশাল এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে।
কুমিল্লা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের দাবি, ইপিজেডের মধ্যে থাকা দুটি নর্দমা থেকে শহরের বিভিন্ন বিষাক্ত পানি এবং মানব বর্জ্য এসে খালটিকে দূষিত করছে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নগরের ড্রেনের পানি খালের পানিকে এতটা বিষাক্ত করতে পারে না, এসব দূষিত পানি আসছে ইপিজেড থেকেই। দীর্ঘদিন ধরে এ দুই প্রতিষ্ঠান দোষারোপের খেলায় ব্যস্ত, কিন্তু এর মাঝে বিপর্যস্ত হচ্ছে স্থানীয় মানুষের জীবন।
পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, কুমিল্লা ইপিজেডের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগারটি চব্বিশ ঘণ্টা চালু রয়েছে। তারা সরাসরি এবং আইপি ক্যামেরার মাধ্যমেও তা পর্যবেক্ষণ করেন। তাই ইপিজেডের তরল বর্জ্য থেকে পানি দূষিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তাহলে প্রশ্ন, গুংগাইজুরি খালের পানি বিষাক্ত হওয়ার কারণ কী? এই বিষাক্ত পানির উৎস সরেজমিনে গিয়ে দেখা যেত না? ১৫ বছর ধরে স্থানীয় মানুষদের এই ভোগান্তির জন্য দায়িত্ব কার? সমস্যা দূর করা তো পরের কথা, এমনকি সমস্যার সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছাও দেখা যায় না। তারা শুধু নিজেদের ওপর দোষ চাপানো বা কোনো এক পক্ষের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন, তাদের দায়িত্ব শেষ হয়েছে এতেই।
গুংগাইজুরি খালের পানির পিএইচ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড এবং কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড এই চারটি প্যারামিটারের ভিত্তিতে কোনো গবেষণা হয়েছে বলে জানা যায়নি। দ্রুত এই বিষাক্ত পানির উৎস খুঁজে বের করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, কুমিল্লার ইপিজেডের ইটিপি বা তরল বর্জ্য পরিশোধনাগারটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না।
কুমিল্লা ইপিজেড, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনকে খাল দূষণের কারণ খুঁজে বের করার জন্য যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধ হবে এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ দূর করার পদক্ষেপ নেওয়াও সহজ হবে। আশা করা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বোধোদয় পাবে।