নাটোরের পলিনেট হাউস: দেশজুড়ে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা
অর্থনৈতিক উন্নতির ধারায় দেশের কৃষি খাত ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। তবে কৃষি ও কৃষকের অগ্রগতি ছাড়া বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। এ কারণেই বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে এখন কৃষি খাতে যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। নাটোর জেলার সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলায় তেমনই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগের কথা বলব আজ।
পলিনেট হাউস: চারা উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি
ফসলি জমিতে বিশেষ পলিথিন, পাইপ ও অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি করা হয় ‘পলিনেট হাউস’। এটি চারা উৎপাদনের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি। চারা উৎপাদনে প্রতিকূল আবহাওয়া সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পলিনেট হাউসে সারা বছরই চারা উৎপাদন সম্ভব। এখানে রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও কম হয়। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
নাটোরের সাফল্যকাহিনী
নাটোরের এসব পলিনেট হাউসে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা – সারা বছরই চলে চারা উৎপাদনের উৎসব। সব ধরনের সবজি, ফুল, ফল ও তাদের চারা উৎপাদন করা হয় এই ঘরগুলোতে। সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার ছাতনী দিয়াড় ও মির্জাপুর দিয়াড় গ্রামে মাত্র দুই বছরের মধ্যে গড়ে উঠেছে চারটি বড় পলিনেট হাউস। মানসম্মত চারা উৎপাদন করে উদ্যোক্তারা কৃষকদের আস্থা অর্জন করেছেন। এসব তরুণ উদ্যোক্তা স্বল্প সময়েই নিজেদের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। আগে তাদের কেউ ছিল বেকার, কেউ ছিল পোশাকশ্রমিক। পলিনেট হাউসের কাজে যুক্ত হওয়ার ফলে প্রচুর নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এসব হাউস থেকে চারা নিয়ে বিক্রির জন্য সারি সারি দোকান গড়ে উঠেছে। এভাবে অনেকের ব্যবসার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
কৃষি বিভাগের সহায়তা
এসব তরুণকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ছাতনী দিয়াড় ও মির্জাপুর দিয়াড়ের এসব তরুণ একসময় বেকার ছিলেন। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা চারা উৎপাদন শুরু করে সাফল্য অর্জন করেছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য তাদের পলিনেট হাউস তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মাঠকর্মীরা তাদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
দেশজুড়ে উদ্যোগের প্রসারের আহ্বান
কৃষি বিভাগকে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের আশা, দেশজুড়ে তরুণদের এভাবে কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্পৃক্ত করে তাদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তাও বাড়াবে। নাটোরের সেই তরুণদের প্রতিও অভিবাদন, তাদের সাফল্য আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তাদের মাধ্যমে দেশের আরও তরুণ অনুপ্রাণিত হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।