প্রায় পাঁচ বছর পর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নেতারা এক টেবিলে বসলেন। এতে করে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যমের সঞ্চার হয়েছে।
সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণার পর, গত মঙ্গলবার রাতে শহরের ফয়জুল করিমের (ময়ূন) বাসভবনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 32 সদস্যের এই কমিটি গঠিত হয়েছে।
নতুন আহ্বায়ক ফয়জুল করিম বলেন, "পাঁচ বছর পর আমরা একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এবং আমার প্রচেষ্টায় জেলা বিএনপির দুটি পক্ষের বিভেদ মিটে গেছে। এখন থেকে জেলা বিএনপিতে কোন বিভাজন নেই। সব দলীয় কার্যক্রম ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালিত হবে।"
ফয়জুল করিম আরও বলেন, "আমি যখন জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাই, তখনই দলের দীর্ঘদিনের বিভেদ মেটানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর আগেও বিভেদ মেটানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বিভিন্ন কারণে ব্যর্থ হয়েছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি প্রথমবারের মতো আহ্বায়ক কমিটির সব সদস্যকে নিয়ে বৈঠকে বসি, সেখানেই দীর্ঘদিনের বিভেদ মিটেছে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। ১৫১ সদস্যের এই কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠ ছেলে এম নাসের রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর কিছুদিন ঐক্যবদ্ধভাবে সব দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। নেতা-কর্মীরাও দু’ভাগে ভাগ হয়ে যান। তারা দলীয় কর্মসূচি আলাদা আলাদাভাবে পালন করতেন।
জেলা কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সেই অনুযায়ী ২০২১ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কমিটির সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। এখন পাঁচ বছর পর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি গঠনের পর দেশ-বিদেশে অবস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বসিত।
ফেসবুকে নতুন নেতাদের অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। অনেকেই দল সম্পর্কিত তাদের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আহ্বায়ক কমিটিতে আর কাদের নেওয়া যেত, সেটাও বলেছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কাছে অদুদ আলম নামের এক সমর্থক ফেসবুকে তিনটি প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "১. দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনা, ২. ত্যাগী ও যোগ্য নেতা-কর্মীদের দলীয় কাজে সুযোগ দেওয়া এবং ৩. দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা উচিত।"
নতুন আহ্বায়ক ফয়জুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন, মিজানুর রহমান, আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, আব্দুল মুকিত, আশিক মোশারফ, হেলু মিয়া, বকসী মিছবাউর রহমান, মতিন বক্স, মনোয়ার আহমেদ রহমান, ফখরুল ইসলাম, মারুফ আহমেদ, স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী, বকসী জুবায়ের আহমেদ, মুহিতুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তারা সব দলীয় কার্যক্রম একসাথে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, "জেলা বিএনপির সব পক্ষ অনেক দিন পর একসাথে বসেছে। বিএনপির ঐক্যবদ্ধ কাজের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস আলাদা ব্যানারে হওয়ার কথা ছিল, এখন সব এক ব্যানারে হবে। আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে সব উপজেলা ও পৌর কমিটির সম্মেলন হবে। তারপর জেলা কমিটির সম্মেলন হবে।"