• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন |

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে স্বস্তির খবর এসেছে বাংলাদেশের জন্য। ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ চেইনে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
মূলত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে পুরো প্রণালি বন্ধ না করে বাছাই করা কিছু দেশকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে ইরান। খবর এনডিটিভি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক বা দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে তারা নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা বিশেষ কারণে অনুমতি দিই, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদে দেখেছেন— চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েকদিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও— যারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও, যুদ্ধের পরেও এটি চলবে।’
তবে আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে বা চলমান সংঘাতে জড়িত বলে মনে করে তাদের জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। পুরো অঞ্চলই যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনও কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকবে।’
উল্লেখ্য, ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যত আটকে গেছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে এবং বিমান সংস্থা থেকে সুপারমার্কেট— সব খাতেই ব্যয় বেড়ে যাওয়া, চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যার মুখে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরান পাল্টা আঘাত হেনে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে। এর ফলে জ্বালানি বহনকারী জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ যাতায়াত করে। কিন্তু ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ পার হয়েছে। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটা অন্য সময়ের তুলনায় ৯৫ শতাংশ কম।
এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ, যাদের বেশিরভাগই প্রণালি পেরিয়ে পূর্ব দিকে গেছে। আর গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) মাত্র দুটি জাহাজ পশ্চিমমুখে প্রণালি অতিক্রম করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *