• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগীদের এগিয়ে রাখতে চায় বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ১৩টি আসন এবং ১টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
দলীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি এবার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে। এছাড়া সংসদ কাঁপাতে পারে এমন নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে দলটি ‘এক পরিবারের এক প্রার্থী’ নীতি অনুসরণ করতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৭ বছরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই ত্যাগ ও অবদানের বিষয়গুলো প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা টাইমসকে বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে মহিলা দলের অসংখ্য নেতাকর্মীদের অত্যাচারিত হয়েছেন। ফেসবুকে মতপ্রকাশ করলেই রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার করা হতো। মাসের পর মাস জেলে থেকে থেকেছে। এটাতো একটি বড় ধরনের বিবেচনার বিষয়। এরসাথে আইন সম্পর্কে একটি বেসিক ধারণা থাকবে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে, গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর থেকেই বিএনপির সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আনাগোনা লক্ষ করা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন ফরম কবে, কোথায় এবং কীভাবে বিতরণ করা হবে—এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দলীয় উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ অথবা ১৬ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা পাঠাতে পারে। ওই সময় গণমাধ্যম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকেও তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, দলের প্রতি কমিটেড ও অতীত ত্যাগ-তিতিক্ষা মূল্যায়ন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন তাদেরকে দল মূল্যায়ন করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
প্রাথমিক আলোচনায় যাঁদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা অপূর্না রায়, হাসিনা আহমেদ, রুমানা আহমেদসহ আরও অনেকে।
সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য নাম দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলে যাঁদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি সুলতানা আহমেদ, সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হিরা, নিলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, রেহানা আক্তার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সংগীত শিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, কনক চাঁপা, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী হাসনা হেনা হীরা, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, জেবা আমিন খান, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানাজিদা ইসলাম তুলি, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ফাতেমা বাদশা, অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ, অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন, নাজনীন মাহমুদ, জেলী চৌধুরী, ডা. লুনা খোন্দকার, শাহিনুর নার্গিস, এডভোকেট রেজাকা সুলতানা ফেন্সী, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবী, বিলকিস আক্তার নীলা, এডভোকেট মিনা বেগম মিনি, মমতাজ হোসেন লিপি, লুৎফা খানম স্বপ্না চৌধুরী, খাদিজা আক্তার বিনা, পাপিয়া ইসলাম, ফারজানা ইয়াসমিন রুমা, মুকুল আক্তার অনা, সীমা চৌধুরী, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, নিলুফা ইয়াসমিন নিলু, তানজিল চৌধুরী লিলি, এড. মমতাজ করিম, রোকসানা বেগম টুকটুকি, শাজাদী লায়লা আঞ্জুমান বানু, নাজমা আক্তার, ডা. রেয়ান আনিস, শাহিন সুলতানা বিউটি, ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনি, আছমা শহীদ, রুনা গাজী, শেখ রুনা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, এড. আরিফা সুলতানা রুমা, এড. শাহানুর বেগম সাগর,পপি আক্তার, নাদিয়া পাঠান পাপন, সামিরা তানজিন চৌধুরী, সাবিনা খান, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা সাবিরা সুলতানা প্রমুখ।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণে এখনো উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং আন্দোলনে ভূমিকার ভিত্তিতে তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জোর লবিং ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ঢাকা টাইমস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *