**বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থী বিশ্বমঞ্চে পুরস্কৃত**
আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি মাইকেল ডি হিগিনসের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে দেয়া হয় গ্লোবাল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড। এ বছর এই পুরস্কারের ‘আঞ্চলিক’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শাফায়াত আলম এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার হাসান শেখ। শাফায়াত স্থাপত্য ও নকশা বিভাগ এবং হাসান ভাষাতত্ত্ব বিভাগে আঞ্চলিক বিজয়ী হয়েছেন।
শাফায়াত তার স্নাতকের প্রকল্পটি জমা দিয়েছিলেন গ্লোবাল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড ২০২৪-এ। তিনি বলেন, “বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি আমার শখ। তা ছাড়া প্রকৃতির প্রতি একটা দায়িত্বও আমার অনুভূত হয়। শেষ বর্ষে উঠে ভাবলাম, বাংলাদেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে যে সংঘাত আছে, সেটা নিয়েই থিসিস করব।”
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন উজাড় হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ ও হাতির মধ্যে যে বিরূপ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন শাফায়াত। শেরপুরের বালিঝুরি এলাকাকে বেছে নিয়ে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে হাতির চলাচলের পথ ও মানুষের বসতি দুটোই নিরাপদ রাখা সম্ভব। তার এই প্রকল্পের নাম ‘আ সিনানথ্রোপিক করিডর’। অর্থাৎ মানুষ ও বন্যপ্রাণীর জন্য এমন এক স্বাধীন পরিবেশ যেখানে কেউ কারও ক্ষতির কারণ হবে না।
শাফায়াত বলেন, “ভবিষ্যতে আমি আরও গভীরভাবে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে চাই।”
নর্দান ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক হয়েছেন হাসান শেখ। তবে দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ‘গ্লোবাল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ সম্পর্কে তার ধারণা ছিল। তিনি বলেন, “এটা ছিল আমার স্নাতকের প্রকল্প। সে সময় আমি ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাবিনি এমন একটি অর্জন আসবে। কিন্তু আল্লাহর রহমত এবং আমার সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ স্যারের অনুপ্রেরণায় সফল হয়েছি।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গণমাধ্যমগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখছে, সেটাই ছিল হাসানের গবেষণার বিষয়। বিবিসি, ফক্স নিউজ এবং স্পুটনিক এই তিনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরগুলো বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। এই কাজটি করতে হাসানকে এই সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রায় এক বছরের খবর সংগ্রহ করতে হয়েছে। বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে গণমাধ্যমগুলো কীভাবে ঘটনাটি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে, ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী কৌশল অবলম্বন করে, সেটিই হাসান বুঝতে চেষ্টা করেছেন।
ভাষাতত্ত্ব বিভাগে পুরস্কৃত হাসান বলেন, “ভবিষ্যতে গবেষক হওয়ার ইচ্ছে আছে। তার পাশাপাশি মানবকল্যাণেও বিভিন্ন কাজ করতে চাই। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য।”