• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন |

অস্কারজয়ী অভিনেত্রীর মেঝে আর সোফাতে রাত্রিযাপন

হলিউড সুপারস্টার নিকোল কিডম্যানের জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্য

হলিউডের সবচেয়ে সফল অভিনেত্রীদের একজন হলেন অস্কার, গোল্ডেন গ্লোব, ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং এমির মতো সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কারগুলো অর্জনকারী নিকোল কিডম্যান। এ বছর তিনি মর্যাদাপূর্ণ এএফআই লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন। তাঁর জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা শুনে আপনি অবাক হবেন।

"ধন্যবাদ আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট (এএফআই)। আজ এই আলোকিত মঞ্চে দাঁড়ানোর পথটা আমার শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে, আমার বোনকে নিয়ে। তিনি আজও এখানে আমার সামনে বসে আছেন। ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা-মা আমাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। বলেছেন, যেকোনো কিছু করো, যেকোনো কিছু শোনো। তাই আমি স্থানীয় নাট্যদলে যোগ দিয়েছিলাম।

আমার বাড়ি থেকে আমাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, বিশেষ করে বই পড়ার স্বাধীনতা। বাবা-মা বলেছিলেন- যা খুশি পড়ো। আমি যেহেতু খুব ছোট বয়সে মঞ্চে অভিনয় শুরু করেছি, তাই প্রায়ই বই পেয়েছি পারিশ্রমিক হিসেবে। আমি তখন এতটাই ছোট ছিলাম যে নাটকের পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা দেওয়া আমার জন্য অনুপযুক্ত মনে হতো। চেখভ, ইবসেনের বইগুলো আমার প্রিয় পারিশ্রমিক ছিল।

আজও আমার পারিশ্রমিক হিসেবে বই পেলে খারাপ লাগবে না। না থাক…আমি এখন চেক জমা দিয়ে বই কিনে নিচ্ছি। (হাসি) এখন ভাবছি, ছোটবেলায় হয়তো স্বাধীনতা একটু বেশিই পেয়েছিলাম। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে শুরু করেছিলাম। তবে আমি তোমাদের বলছি, বাচ্চারা, এটা করো না। সেই সময়ে অনেক এমন সিনেমাও দেখেছি, যা হয়তো আমার দেখা উচিত ছিল না। সিনেমা হলই আমার ক্লাসরুম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় ১৪ বছর বয়সে। জেন ক্যাম্পিয়ন নামের একজন নারী আমার কাছে এসেছিলেন। তিনিও তখন অভিনয় জগতে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তিনি স্থানীয় নাট্যদলের জন্য অভিনেতা খুঁজছিলেন। আমার সঙ্গে দেখা করে তিনি বললেন, আমার স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে তিনি আমাকে চান। কিন্তু চিত্রনাট্য পড়ার পর আমি তাকে সোজা বলে দিলাম, "পছন্দ হয়নি।" জেন একজন চমৎকার মানুষ। হেসে তিনি বললেন, "তবে আমরা তো বন্ধু হতে পারি।"

আমি জন্মসূত্রে মার্কিন, কিন্তু বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়। জীবনভর পৃথিবী ঘুরে বেড়াতে চেয়েছি। আর অভিনয়ের চেয়ে এটা পূরণ করার ভালো কোনো পেশা নেই। অভিনয়শিল্পীদের জীবন মানে একজন যাযাবরের জীবন। যেখানে কাজ পাবেন, যেখানে সুযোগ পাবেন, যেখানে আশ্রয় পাবেন, সেখানেই ছুটতে হবে। আমার ভাগ্য ভালো, কারণ আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলাম কিছু কাজ নিয়ে। তবে পাশাপাশি চলচ্চিত্রের জন্য অডিশনও দিচ্ছিলাম। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য আমার কোনো জায়গা ছিল না। আমি বন্ধুদের বাড়ির মেঝেতে বা সোফায় ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছি। ক্যাব ভাড়া দিতে আমার খুব খারাপ লাগত। তাই অডিশনের ডাক পেলে আমি আগে বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতাম যে তারা সেই পথে যাবে কিনা এবং আমি কি তাদের গাড়িতে উঠতে পারি কিনা। আমার কাছে ক্যাবে করে অডিশনে যাওয়া মানে ছিল রাতের খাবার না খেয়ে থাকা। সেই সময়ে আমার পাশে থাকা বন্ধুদের আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি। তাদের অনেকে আজ এই মঞ্চেও উপস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর দ্রুতই আমার পরিচয় হয়েছে পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে। একেকজনের কাজ দেখে আমি বিস্মিত হতাম। অভিনেয় শিল্পীদের জীবন এমনই- একজন সহশিল্পীর সঙ্গে জীবনে একবার দেখা হতে পারে, কেউ কাছের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে, কেউবা সমর্থক হতে পারে। কাউকে আপনি ভালোবাসতে পারেন, হয়তো এমনকি বিয়েও করতে পারেন। আবার কারও সঙ্গে বছরের পর বছর দেখা নাও হতে পারে। কারও সঙ্গে হয়তো শুধুই শুটিং সেটে দেখা হতে পারে। এটাকেই বলে যাযাবরের জীবন। আমি ভাগ্যবান যে আমি এই জীবন পেয়েছি।

অসাধারণ শিল্পী ও পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের থেকে শিখেছি। অনস্ক্রিনে এমন কিছু নারী চরিত্রে অভিনয় করেছি, যাদের আমরা সচরাচর আশপাশে দেখি না। এটাও আমার জন্য একটা বড় পাওয়া। সেইসব নির্মাতাদের ধন্যবাদ, যারা আমাকে এত অসাধারণ চরিত্রগুলোর প্রাণ দিয়েছে। আমার জীবনে ভাগ্যের জোরে অনেক কিছুই পেয়েছি, তবে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভালোবাসা। প্রচুর, প্রচুর ভালোবাসা।

পরিচালক অ্যান্ডি ওয়ারহল একবার একটা সুন্দর কথা বলেছিলেন, ‘শিল্প চর্চা করো। তা ভালো না খারাপ, সেই সিদ্ধান্ত অন্যদের নিতে দাও। তাদের সেই সিদ্ধান্ত নিতে নিতে তুমি আরও কি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *