**বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগে বিষয় নির্বাচন: কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?**
একসময় মা-বাবা বা পরিবারের লোকেরাই নির্ধারণ করে দিতেন যে সন্তানরা বড় হয়ে কী পড়বে, কোন পেশায় যোগ দেবে। এখনও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই প্রথা চালু আছে। তবে সময় বদলেছে। এখন শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দ এবং আগ্রহ অনুযায়ী বিষয় বেছে নিতে চায়। কিন্তু পছন্দ-আগ্রহের পাশাপাশি আরও কী কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত?
ভালো মানের বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজন একটি ভালো পরিবেশ। এজন্য পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জায়গা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম। তিনি কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, “বর্তমানে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের পাশাপাশি বিষয় নির্বাচনও করতে হয়। আমি মনে করি উভয় ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেলা ব্রান্ত হওয়া যাবে না।”
ধরুন, আপনি একটি কম পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে সুযোগ পেয়েছেন। আবার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে কম পরিচিত কোনো বিষয়ে সুযোগ পেয়েছেন। কোনটি বেছে নেবেন? মাহবুবুলের মতে, এখানে সামঞ্জস্যের কথা ভাবা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহকে প্রধান্য দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদীন মনে করেন, যে বিষয়টি পড়বেন সেটি যে ভালো লাগাটা জরুরি। পড়ালেখায় আনন্দ না পেলে অনেকেই বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেয়েও হতাশায় পড়ে যান। এমনটা যেন না হয়।
বলা হয়, আনন্দ নিয়ে কোনও কাজ করলে তা কখনও কাজ বলে মনে হয় না। বিষয় নির্বাচনের সময়ও এই তত্ত্ব মাথায় রাখা যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গেই কথা হয়েছিল কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগেরির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সপ্তর্ষি পালের সাথে। তিনি বলেন, “পেশা এমন হওয়া উচিত যা আমাকে দিন শেষে আনন্দ দেবে। এমন একটি পেশা পেতে হলে স্নাতকে নিজের পড়ার বিষয়টি সাবধানে বেছে নিতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই আমি খেয়াল করতাম কোন ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই আমার পারদর্শিতা বেশি। ধীরে ধীরে এই পছন্দের পরিধি সীমিত করতে হবে। যেমন, বিজ্ঞান থেকে প্রকৌশল, প্রকৌশল থেকে ইইই…”
যদিও এটাও সত্য যে যে বিষয়ে পড়ছেন তাতেই পেশা গড়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অনেক সময় খুব সাবধানে ভেবে-চিন্তে পড়াশোনা শুরু করার পরেও মাঝপথে অন্য কোনও বিষয় ভালো লাগতে পারে। আগ্রহ, পরিশ্রম এবং দক্ষতার সমন্বয় করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে সৃজনশীল বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। চারুকলা থেকে শুরু করে ফ্যাশন ডিজাইন বা ফটোগ্রাফি নিয়েও অনেকে পড়তে চান। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মা-বাবা বা সমাজ এ ধরনের বিষয়ে খুব একটা ভরসা করেন না।
তবে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আইয়ুব নবী খান শিক্ষার্থীদের সাহস জোগান। তাঁর মতে, “বিষয় নির্বাচন নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরই পরিষ্কার ধারণা থাকে না। এই ধারণা তৈরি করতে হলে ইন্টারনেটে খোঁজখবর নিতে হবে। সংবাদমাধ্যমে নজর রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘাঁটলেও উপকার হবে। এসব কাজ করলে দেশে এবং দেশের বাইরে ক্রমবর্ধমান চাকরির চাহিদা সম্পর্কে ধারণা হবে। যখন আমি টেক্সটাইলে পড়েছিলাম, তখন এটি একটি নতুন বিষয় ছিল।
একইভাবে, ফ্যাশন ডিজাইনও এখন একটি নতুন বিষয়। এখানে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পে বিদেশি ডিজাইনাররা নকশা তৈরি করে, আমরা শুধুমাত্র কাপড় তৈরি করি। আমাদের নিজস্ব কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। তবে আমরাও এটি করতে পারি। এই সেক্টরকে এগিয়ে নিতে হলে মেধাবী তরুণদের এখানে আসতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানের ইচ্ছার প্রতি আরও সচেতন হতে হবে।”
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল হুদা সময়োপযোগী বিষয় নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিলেন। তাঁর মতে, “একসময় অনেকেই ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে পড়তেন। এখন এর চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। ডেটা সাইন্স এবং শিল্পবিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলির চাহিদা এখন বেড়েছে। আমি মনে করি দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ধরনের আধুনিক বিষয়গুলোকেই পড়াশোনা করা উচিত। কারণ, ভবিষ্যতের যুগ হবে কম্পিউটার প্রকৌশল, মেশিন লার্নিং এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলি