• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন |

সমস্যার গোড়ায় ছুরি চালানো জরুরি

**সমস্যার গোঁড়া খুঁজতে হবে**

২০২৪ সালের এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার শুরু থেকেই বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছিল। সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে কিছু পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল। পরে স্থগিত করা পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু, কিছু পরীক্ষার্থী সচিবালয়ে গিয়ে দাবি ও বিক্ষোভ জানালে সরকার স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করে দেয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, যে বিষয়গুলির পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, সেগুলোর ফলাফল ‘বিষয় ম্যাপিং’ করে নির্ধারণ করা হবে।

এবারের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা বেড়েছে ৪৩৫টি। কিন্তু, দুঃখজনক হল, দেশের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজনও পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। আগের বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪২টি। অর্থাৎ, পাসশূন্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২৩টি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আটটি প্রতিষ্ঠান, রাজশাহীর দুটি, কুমিল্লার চারটি, যশোরের সাতটি, চট্টগ্রামের পাঁচটি এবং ময়মনসিংহের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী এবার ফেল করেছে।

পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডের ২০টি কলেজ থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। এই কলেজগুলোতে কমপক্ষে একজন থেকে বেশি হলে আটজন করে পরীক্ষার্থী ছিল। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, আগের বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে এবারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু যদি এমন ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পাসশূন্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে এর অর্থ বর্তমান ব্যবস্থাটি কার্যকর নয়।

‘প্রথম আলো’ পত্রিকার প্রতিবেদন জানাচ্ছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক কলেজ শুধু সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্যই খোলা হয়েছে। দেখা গেছে, কলেজ স্তরে পাঠদানের অনুমতি পেলেও কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না। অনেক প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয় না। সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা হচ্ছে কি না, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা আছে কি না, এসব বিষয়ে যথাযথ তদারকি করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সরকারের উদাহরণ তৈরি করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ না করে সেগুলোর উন্নয়ন করতে হবে। যথাযথ পরিদর্শন এবং তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় যদি প্রতিষ্ঠান বেশি হয়, তাহলে কোনো বিবেচনাতেই বাড়তি প্রতিষ্ঠানকে কলেজ স্তরে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *