• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন |

ক্ষমাপ্রার্থ না করলে আওয়ামী লীগে রাজনীতি করার অধিকার নেই

**বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের সাক্ষাৎকার**

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আপনার মতে কোন পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করার মতো?

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আমরা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারছি।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনের পর প্রথম দিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কিছু দূরত্ব ছিল। বর্তমানে সেই দূরত্ব অনেক কমে এসেছে। সরকার রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করছে। ১৯ নভেম্বর আমরাও আমাদের মতামতগুলো তুলে ধরেছি।

**রাষ্ট্র সংস্কারে সরকার ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনগুলো নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?**

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* সরকার যদি কমিশন গঠনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করতো তাহলে ভালো হতো। তারা রাজনৈতিক দল এবং কমিশনের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারত। সে ক্ষেত্রে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রাজনীতিবিদদের মনোভাব সহজে জানতে পারতেন। আমরাও আমাদের মতামত তাদের কাছে তুলে ধরতে পারতাম। মনে রাখতে হবে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকে আপনি ১৫ আগস্ট সম্পর্কে যে মত দিয়েছিলেন তা অন্যদের থেকে ভিন্ন ছিল।

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* আমরা বলেছি, ১৫ আগস্টকে যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। ১৯৭১ সালের আগে ও পরে আওয়ামী লীগের চরিত্র এক নয়। ইতিহাসে যার যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকু দেওয়া উচিত।

**সংবিধান সংশোধন নাকি পুনর্লিখন – এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। আপনাদের অভিমত কি?**

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* সংবিধান পুনর্লিখন একটি বড় বিষয়। বড় কাজ করার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন। আমরা মনে করি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেটুকু সংস্কার অপরিহার্য, সেটুকুই কমিশনের করা উচিত। বাকি কাজটা নির্বাচিত সরকারকেই করতে হবে।

**ভোট ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু দল বর্তমান ব্যবস্থার পক্ষে, আবার কিছু দল আনুপাতিক ভোটের পক্ষে। আপনি কি বলবেন?**

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* এটাও নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি চলে এসেছে। এটা পরিবর্তন করতে হলে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া প্রয়োজন। আনুপাতিক হারে ভোট দেওয়ার আগে ভোটারদের সচেতন করতে হবে।

**নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্যও একটি কমিশন গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে আপনারা কি কোনো সুপারিশ করবেন?**

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* বর্তমান আইনে কমিশন গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বা নির্বাহী প্রধান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তাঁর সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন। আমি মনে করি, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। যে সার্চ কমিটি বা এই ধরনের যে কমিটিই গঠন করা হোক না কেন, তাদের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

**অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যাধিকারের অগ্রাধিকার কি হওয়া উচিত বলে মনে করেন?**

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের। তাহলে দেশের কোথায় কী ঘটছে, সেটা তারা সহজে জানতে পারত। আমি মনে করি, সরকারের দুটি প্রধান কাজ হলো গণহত্যার বিচার এবং নির্বাচনমুখী সংস্কার। তারা অনেক বড় বড় কাজ হাতে নিলে সময় বেশি লাগবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। এই কাজগুলো রাজনীতিবিদদের জন্যই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

**জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অন্তর্বর্তী সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো কি যথেষ্ট?**

*আন্দালিব রহমান পার্থ:* যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ বাহিনীকে আরো সক্রিয় এবং চলমান রাখতে হবে। আন্দোলনের সময় অনেক পুলিশ সদস্য নিহত এবং আহত হয়েছেন। সকলেই যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তা নয়। অনেকে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। নিহত এবং আহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সহায়তা করা উচিত। পুলিশকে ঘৃণিত বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। তাহলে কেউ এই বাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক হবে না। সরকার পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনতে চাইছে। কিন্তু যখন আপনি যাত্রাবাড়ী থানার হত্যাকাণ্ডের জন্য উত্তরা থানার একজন কর্মকর্তাকে আসামি করেন, তখন তাদের মনোবল ফিরে আসবে কীভাবে? কিছু ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেও অনেক মামলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটা আশ্বস্ত করা উচিত যে, যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন, তাদের কোনো সমস্যা হবে না।

**আপনি গণহত্যার বিচারের কথা বলছেন, সেটা কি ব্যক্তির নাকি দলের বিচার?**

*আন্দালিব রহমান পার্


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *