• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন |

বারসার গোলাকারীতে গাভির বিজয়ী প্রত্যাবর্তন

**গাভির প্রত্যাবর্তনে বার্সেলোনা ৫ গোলে রাঙাল সেভিয়াকে**

বার্সেলোনার মধ্যমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় গাভির জন্য গতকালের ম্যাচ ছিল অন্যরকম অভিজ্ঞতা। লিগামেন্টের চোটের কারণে ৩৪৮ দিন পর ফিরে মাঠে, নতুন কোচিং স্টাফ এবং অধিনায়কত্বের একটি বিশেষ সম্মান। সতীর্থ পেদ্রি ৮৩তম মিনিটে মাঠ থেকে বের হওয়ার আগে তাকে অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী পরিয়ে দেন।

গাভির অধিনায়কত্বে বার্সেলোনার প্রত্যাবর্তন রাতে আগেই জাঁকিয়ে রেখেছিলেন রবার্ট লেভানডফস্কি-লামিনে ইয়ামালরা। গাভি মাঠে নামার আগেই সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সা ৪-০ এগিয়ে।

শেষ ৩ মিনিটে আরেকটি জোড়া গোল হয়। ৮৭তম মিনিটে সেভিয়ার স্তানিস ইদুম্বোরের সান্ত্বনাসূচক গোলের পরের মিনিটেই বার্সার পাবলো তোরের গোল। এতে সেভিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষে অটল রইল ফ্লিকের দল। একই সঙ্গে নিশ্চিত হল, রিয়াল মাদ্রিদের (১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট) চেয়ে এগিয়ে থেকেই আগামী শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো খেলতে নামছে বার্সা (১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট)।

নিরদিষ্ট লুইস কোম্পানিসে গতকাল ম্যাচের শেষ গোলটির ৬ মিনিট আগে আরেকটি গোল করেন তোরে। জোড়া গোল করেন লেভানডফস্কিও। প্রথমটি ২৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে, পরেরটি রাফিনিয়ার পাস থেকে ৩৯তম মিনিটে। এই ২টি গোলের মাঝখানে গোল করেন পেদ্রি।

শনিবারের এল ক্লাসিকোর আগে বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্লিকের সাবেক ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে খেলবে বার্সেলোনা। গুরুত্বপূর্ণ ২টি ম্যাচের আগে বড় জয় অবশ্যই দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। তবে দলের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের চেয়েও তারকা খেলোয়াড়দের চোট কাটিয়ে ফেরা ফ্লিকের কাছে বেশি আনন্দের।

গাভির আগে এ মাসেই চোট কাটিয়ে ফিরেছেন আরেক মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। ম্যাচের আগমুহূর্তে গা গরমের সময় চোটে না পড়লে খেলতেন ফেরান তোরেসও।

ম্যাচ শেষে ফ্লিক বলেছেন, “সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, শুধু বড় ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচই নয়। সেভিয়া কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। তা ছাড়া আমরা সদ্যই (আন্তর্জাতিক) বিরতি থেকে ফিরেছি। ফল নিয়ে আমি খুব খুশি। আজ (গত রাতে) আমরা এই জয় উপভোগ করব এবং আগামীকাল (আজ) বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নেব।”

বার্সেলোনায় ‘জীবন্ত’ হয়ে উঠলেন গাভি, তা নিয়ে ফ্লিক বলেছেন, “ওকে নিয়ে আমি খুব খুশি। পুরো ক্লাবই খুশি। ওর প্রত্যাবর্তন আমাকে শিহরিত করেছে। ফেরাটা ওর জন্য এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

৩৪৮ দিন পর খেলতে নামা গাভি বলেছেন, “আমার জন্য সবচেয়ে খারাপ অনুভূতি ছিল মাঠে নামতে না পারা। এতগুলো দিন মাঠের বাইরে থেকে দেখেছি, দলের সবাই কঠিন পরিশ্রম করছে। কয়েক মাস ধরে আমি এই মুহূর্তটির স্বপ্ন দেখেছি। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা আমার ফেরাটা সহজ করেছে।”

গাভিকে অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনী পরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে পেদ্রি বলেছেন, “এটা ওর প্রাপ্য ছিল। সে খুব পরিশ্রমী, মানুষ হিসেবেও ভালো। সবাই দেখেছে যে, সে মাঠে নামার সময় সমর্থকদের কতটা ভালোবাসা পেয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *