• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশের জন্য বিতর্কিত প্রতিবেদন

**পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন প্রতি নিরীহ ব্যক্তিদের অভিযোগ**

সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের মহেশখালী ও চকরিয়ায় পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ অঞ্চলের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে অবহেলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে চকরিয়ার বদরখালী উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষার জন্য উবিনীগ নামের বেসরকারি সংস্থা বদরখালী নদীর তীরে ৪০ হাজারেরও বেশি কেওড়া ও বাইন গাছের চারা রোপণ করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এসব গাছের উচ্চতা ছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট।

কিন্তু সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় শতাধিক দখলদার এসব গাছ কেটে চিংড়ির ঘের নির্মাণ করেন। এসব দখলদারদের সবাই সাবেক কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য জাফর আলমের অনুসারী।

এ ঘটনায় গত জানুয়ারিতে প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পর চকরিয়া উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হোসাইন স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করেন। আদালত পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের পরিচালককে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়।

প্রায় আট মাস পর আদালতে যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় তাতে আশ্চর্যজনকভাবে প্রকৃত দখলদারদের নাম বাদ দিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন ১৩ জন নিরীহ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে লবণচাষি, কৃষক, নৈশপ্রহরী এবং দোকানের কর্মচারী।

উবিনীগ দাবি করেছে, তারা পরিবেশ অধিদপ্তরকে জড়িত প্রায় ৪০ জনের একটি তালিকা এবং প্যারাবন নিধনের ভিডিও ফুটেজ সরবরাহ করেছে। ভিডিওতে প্যারাবন নিধনকারীদের সহজেই শনাক্ত করা যায়। তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের নামও সংগ্রহ করেছিল।

এসব তথ্য সত্ত্বেও তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত দখলদারদের নাম বাদ দিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক দাবি করছেন, তারা সরেজমিন অনুসন্ধানের পর প্যারাবন নিধনের সঙ্গে সম্পর্কিতদের অভিযুক্ত করেছেন।

নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। উবিনীগ ঘোষণা করেছে যে তারা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করবে এবং পুনরায় তদন্তের দাবি জানাবে।

আশা করা যায়, পুনরায় তদন্ত করা হবে এবং প্রকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তারা নিজেরাই খণ্ডাতে পারবে এমন স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *