**অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছুই নাই: সুমন**
অর্থহীনের প্রতিষ্ঠাতা, বেজ গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, এক বছর পর অর্থহীনের কনসার্ট ও নতুন অ্যালবাম আসার কথা রয়েছে। ‘ফিনিক্সের ডায়েরি ২’ নামের অ্যালবামটি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুমন বলেছেন, “আমাদের অ্যালবামের যুগ নেই artık। তবুও আমরা দুটি অ্যালবাম দিচ্ছি। লোকসান যাবে যাক, স্পনসর পাই বা না পাই, অ্যালবাম করব। আবার কয়েকটি কনসার্টও করে দেব। তবে এগুলো কনসার্ট হবে না, এগুলো হবে একপ্রকার এক্সপেরিয়েন্স।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যান্ডে কোনো সদস্য নিলে প্রথমেই বলি, ফেম (খ্যাতি) ও টাকার জন্য অর্থহীনে আসো না। আরেকটি কথা হলো, নো ড্রাগস। ড্রাগে আসক্ত হলে চলবে না। এই নিয়মগুলো মানতেই হবে।”
“তার সঙ্গে আরেকটা কঠিন নিয়ম রয়েছে, অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। এটা একটা একনায়কতান্ত্রিক ব্যান্ড। আমি এটা চালাই, আমি যেভাবে বলব, সেভাবেই চলবে। কিন্তু আমি কোনো একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার সঙ্গে বৈঠক করব। সবার কথা শুনে আমি একটা সিদ্ধান্তে আসব। সেই ডিসিশন নিয়ে বাকি তিনজনের মধ্যে একজন হয়তো খুশি হবে না, দুজন হয়তো খুশি হবে। চারজন খুশি হবে, এভাবে জীবন চলে না। এভাবে একটা দেশ, কোনো প্রতিষ্ঠান চলে না, এভাবে ব্যান্ডও চলবে না। এইভাবে ব্যান্ড চালাতে গেলে ব্যান্ড ভেঙে যাবে। তাই আমার কথা শুনতে হবে।”
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ফেসবুক লাইভে সুমন ঘোষণা করেছেন যে, ‘ফিনিক্সের ডায়েরি ২’ আসছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে চার বছর পর চট্টগ্রামে একটি কনসার্টের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে ফিরেছিলেন এই গায়ক। সেই কনসার্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, “যখন স্টেজে উঠছিলাম তখন একটা ছেলে রিকোয়েস্ট করল যে, আমি ‘অসমাপ্ত’ গানটি গাই। আমি তাকে বললাম, ‘গানটা আমরা প্র্যাকটিস করিনি।’ পরে স্টেজে উঠে বললাম, ‘একটি ছেলে “অসমাপ্ত” গাইতে অনুরোধ করেছে, আমাদের প্র্যাকটিস নাই, তবুও গানটা গাইব।’ গানটা শুরু করা মাত্রই সামনে ৪০ হাজার লোক পুরো চট্টগ্রাম শহর কাঁপিয়ে ফেলল। আমার গানটা গাইতে হলো না। ফ্যানদের এই লয়্যালিটির কথা ভেবে এখনো আমার চোখে পানি চলে আসে। এটা অবিশ্বাস্য!”
২০১০ সালে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পরে তিনি সঙ্গীত জগৎ থেকে দূরে ছিলেন। তার সঙ্গীত জীবন ফিরে পাওয়ার গল্প শেয়ার করে তিনি বলেন, “ক্যানসারের কথা শুনে আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সাত থেকে আট দিন দরজা-জানালা বন্ধ করে বসে ছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না, আমি কিভাবে এটা হ্যান্ডেল করব। তখন আমি একা থাকতাম। পরিবারকে জানাইনি, কারণ ছেলেমেয়েরা জানলে পাগল হয়ে যাবে। ডাক্তার আমাকে আট থেকে চৌদ্দ মাস সময় দিয়েছিল।”