• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন |

টিভি সদন থেকে বেরিয়ে গুলিস্তানে কাপড় কিনতে ছুটলো কিশোর

তারপর ঢাকায় একদিন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকারের সঙ্গে দেখা হয়। তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি একদিন মনি কিশোরকে বিটিভিতে নিয়ে যান এবং ফিরোজ মাহমুদের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়ার প্রথম ঘটনাটির কথা গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনি কিশোর এভাবে বর্ণনা করেন, ‘মিল্টন খন্দকার আমাকে বললেন, “আপনাকে ফিরোজ মাহমুদ সাহেবের কাছে নিয়ে যাব।” জানতে চাইলাম, উনি কে? বললেন, “গেলেই বুঝতে পারবেন।” একদিন গেলাম। ক্যাসেটে গান রেকর্ড করে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেদিন সেখানে সাবিনা (ইয়াসমীন) আপা, নজরুল ইসলাম বাবু ভাই, আলীমুজ্জামান দুলু ভাইসহ অনেকেই ছিলেন। বিটিভির নির্বাহী প্রযোজক ফিরোজ মাহমুদ ভাইয়ের সঙ্গে মিল্টন খন্দকার আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন এভাবে, “আমি তো সংগীতের মানুষ, যারা সংগীত প্রবাহ ও গীতি বিচিত্রা অনুষ্ঠানে গান গায়, তাদের চেয়ে এ (মনি কিশোর) অনেক ভালো গাইবে। না গাইলে তখন আমাকে বইলেন।” এরপর গান শুনলেন। ফিরোজ ভাই যখন গানটা শুনছিলেন, হঠাৎ বাবু ভাইও চুপ হয়ে গেলেন। একটা সময় পুরো ঘর চুপচাপ হয়ে গেছে। সেদিনই তিনি বিটিভির গীতি বিচিত্রা অনুষ্ঠানে গাইবার সুযোগ করে দেন।’

প্রথমবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে গাইবেন বলে মনি কিশোর বেশ রোমাঞ্চিত ছিলেন। টেলিভিশন ভবন থেকে বেরিয়ে জামা-কাপড় কিনতে ছুটে গেলেন। সেই ঘটনার কথা বলেছিলেন এভাবে, ‘গুলিস্তানে গিয়ে একটা শার্ট কিনলাম, ৬০ টাকা দিয়ে। আরেকটা কালো রঙের গেঞ্জি কিনলাম ২০ টাকা দিয়ে। পরদিন বিটিভিতে গেলাম। আলম আরা মিনু, হাসান চৌধুরী, ডলি সায়ন্তনীও ছিলেন। একটা সময় আমার গান রেকর্ডিংয়ের পালা আসে। রেকর্ডিং শেষে আমি দেড় হাজার পোস্ট কার্ড কিনেছিলাম। খালি লিখি আর পাঠাই। বন্ধু, পরিচিতজন সবাইকে পাঠিয়েছি। শুধু লিখেছি, আমার গাওয়া গানটা অমুক দিন যাবে, দেখতে হবে কিন্তু। রাত–দিন খালি চিঠি লিখি। শুধু যশোরে ৫০০ থেকে ৭০০ পোস্ট কার্ড পাঠিয়েছিলাম। এর বাইরে ফরিদপুরসহ যেখানে যেখানে থেকেছি, সব জায়গায় পাঠিয়েছি।’

পুরো দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন গানটির মধ্য দিয়ে মনি কিশোর। গানের তালিম নেওয়া হয়নি কোনো দিনই তাঁর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘হারমোনিয়ামের হা–ও কিন্তু জানি না। আর সারেগামারও সা–ও জানি না। বলতে পারেন, আমি একটা ফটোকপি শিল্পী। আমাকে যে সংগীত পরিচালক যা শিখিয়ে দিতেন, আমি তা–ই গেয়ে দিতাম। কাচের ওপাশ থেকে যা শোনাতেন, তাই গেয়ে দিতাম। আমার কান দুটোই ছিল সম্বল।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *