• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন |

গোল পাগলী শামসুন্নাহার

**গোলের জন্য মুখিয়ে উঠল শামসুনাহার**

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ। এরপর অতিরিক্ত বরাদ্দ হওয়া ৬ মিনিটও বেজে গেছে প্রায়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তখনও গোলে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ দল। হেরে গেলে দশরথ স্টেডিয়াম থেকে জয় দিয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করতে হবে সাবিনা খাতুনদের। কিন্তু সেইসব চিন্তার অবসান ঘটিয়ে শেষ মুহূর্তে শামসুনাহার জুনিয়রের গোলে ড্র নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এই গোলটা পাওয়া পর্যন্ত অস্থির লাগছিল শামসুনাহারকে। আজ টিম হোটেলে বসেই সে কথা বলছিলেন, ‘৯০ মিনিট শেষ হয়েছে। তখন মনে হলো, হে আল্লাহ, এখন কী করা উচিত! মাত্র ৬ মিনিট আর বাকি!’

‘আমরা সবাই মিলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ডিফেন্ডাররা বল ছাড়ছিল এবং উঁচুতে খেলার নির্দেশও দিচ্ছিল। আমরা সেই সময় গোলের জন্য আরও মুখিয়ে হয়ে ওঠি।’

**দলকে বাঁচাতে হাসপাতালে শামসুনাহার**

পাকিস্তানের কাছে হেরে গেলে পরিস্থিতি কেমন হবে তা মাথায় ঘুরছিল তখন শামসুনাহারের। আর তা তাদের উপর চাপ তৈরি করছিল। তবে শামসুনাহারের নিজের ওপর আস্থা ছিল দুজোড়া। সে বলল, ‘আমার প্রতি সবারই আস্থা ছিল যে আমি গোল করতে পারব। সবাই সেটা বলতও। আমরা যারা ফরোয়ার্ড অবস্থানে থাকি, আমাদের ডিফেন্ডার আর মিডফিল্ডাররা সবসময় বলে, “গোলে শুট কর”। তাদের এই আস্থা আমাকে সবটা ঢেলে দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।’

গোল করার পর সেভাবে আনন্দ করার সুযোগ পায়নি শামসুনাহার। ক্রান্তিজ্ঞা তাকে ডেকে বলছিল, “তারাতারি আয়, সময় নেই।”

ম্যাচের দশম মিনিটে শামসুনাহারের চোখের কোণে আঘাত লাগে। ময়মনসিংহের কালসিন্দুরের এই মেয়ে তবুও থেমে থাকেনি। তবে পরে ম্যাচ শেষে হাসপাতাল যেতে হয় তাকে। সে প্রসঙ্গে সে বলল, ‘যার সঙ্গে আমার সংঘর্ষ হয়েছিল, পাকিস্তানের অধিনায়কেরও বেশ ক্ষত তৈরি হয়েছিল। মাঠেই তার চিকিৎসা আর ব্যান্ডেজ হলো। আমার আঘাতে ব্যান্ডেজ করা যাচ্ছিল না কারণ, সেটা চোখের কোণে হয়েছিল।’

এরপরের সময়টাতে ঠিক কেমন অনুভূতি হয়েছিল তাও জানাল বাংলাদেশের এই ফরোয়ার্ড, ‘তখন এটাও মনে হয়নি যে ব্যথা পেয়েছি। ব্যথার দিকটা আগে ভাবিনি। মনে হয়েছিল, ভালো খেলাটাই জরুরি। দেশের জন্য খেলতে হবে। সবাই আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আমাদের অ্যাটাক লাইনে তিনজন যারা ছিলাম, আমাদের ওপরেই আস্থা সবচেয়ে বেশি ছিল।’

**শেষ মুহূর্তের গোলে টিকে থাকা বাংলাদেশ**

গোল করার সময় একটু অন্যরকমভাবেই উদযাপন করে শামসুনাহার। সর্বশেষ সাফ ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল, সেই প্রথম গোলটি ছিল তারই পা থেকে। সে নিজেই বলল, ‘গোল করার পর সেভাবে আনন্দ করার সুযোগ পাইনি। কৃঞ্চাদি ডাকছিল, “তারাতারি আয়, সময় নেই।” আমি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য সেখানে দাঁড়ালাম। তারপর বল তুলে নিয়ে চলে এলাম। ম্যাচের আরও কয়েক মিনিট বাকি ছিল। সেই সময় মনে হয়েছিল, যদি আরেকটা গোল করতে পারি, তাহলে আমরা জিতে যাব।’

পায়ে একটু ব্যথার আভাস থাকলেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলা যাবে বলেই আশা করছে শামসুনাহার। আজ রিকভারি সেশন হয়েছে। যদি সে ভালো অনুভব করে, তাহলে ভারত ম্যাচে খেলতে চায় সে। আর তার লক্ষ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠা। শামসুনাহারের কথা, ‘প্রথম ম্যাচটা যেহেতু একটু খারাপ গিয়েছে, তাই ভারতের বিরুদ্ধে যেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারি, সেই চেষ্টা থাকবে।’

তবে এটা এত সহজ হবে না, সেটা শামসুনাহার ভালো করেই জানে। সে বলল, ‘ভারতের দলে এবার অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় আছে। আমরা সেই সুযোগটা পাইনি, আগে যারা খেলেছে তারা সেটা পেয়েছে। তারা মিডফিল্ড থেকে অনেক ভালো বল দেয়। তাদের উইঙ্গাররাও দারুণ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *