• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন |

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্দশা: অবহেলার জাঁতাকলে পড়ে অকালজরা

**জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: অবহেলার জটিলতায় জর্জরিত**

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিরাজমান। তবে, দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্ববিদ্যালয়টি নানাবিধ সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার জাঁতাকলে আটকে আছে।

**সেশনজট: শিক্ষার্থীদের জীবনের দুঃখকষ্ট**

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার 31 বছর পার হলেও এখনও পর্যন্ত সেশনজটের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই সেশনজটের কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।

**প্রাসঙ্গিক শিক্ষাব্যবস্থার অভাব**

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। কারিগরি শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতি খুবই ধীর। শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোগত সমস্যাও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে বিঘ্নিত করছে।

**বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিস্তর ফারাক**

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিস্তর ফারাক। এই ফারাক পেরোতে না পারার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত রয়ে গেছে। এমনকি এই প্রতিবন্ধকতার কারণে কিছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

**উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণে জটিলতা**

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। প্রায়ই, শিক্ষার্থীরা কিছু কোর্সে ভালো মার্ক পেলেও অন্য কোর্সে ফেল করে। এই ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করলেও সঠিক প্রতিকার পাওয়া কঠিন।

**অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা**

এর পাশাপাশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। যেমন:

* বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কেবল গাজীপুরে পরিচালিত হয়, যা অন্য জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাক্সেস করা কঠিন করে তোলে।
* শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রতি সাড়া দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনীহা।

**প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ**

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপার সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি।

একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের 32তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুদৃষ্টি ও সুবিবেচনা কামনা করছি। শুধুমাত্র এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি তার লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য একটি যোগ্য এবং অগ্রগতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *