• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন |

বাফুফে নির্বাচন: গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ ক্রীড়া উপদেষ্টার

**বাফুফে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা**

যুব এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ক্রিকেট এর কিছু সিদ্ধান্তের সাথে জড়িয়ে থাকার পর, আজ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) পরিদর্শন করলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বাফুফে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন না বিদায়ী নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। ক্রীড়া উপদেষ্টা কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী এবং বিদায়ী নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যই তাঁর পরিদর্শনের সময় উপস্থিত থাকবেন না।

আসন্ন ২৬ অক্টোবর বাফুফে নির্বাচন। তবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, “নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু হবে তা নিয়ে সংশয় আছে।” কারণ, আগের নির্বাচনে আগের পরিষদের কাউন্সিলরদের প্রায় সবাইকে তাদের পদে রেখে নির্বাচন হয়েছে। তিনি ফেডারেশনকে স্বায়ত্তশাসিত মনে করেন এবং তারা ফিফা নিয়ম মেনে চলে।

ক্রীড়া উপদেষ্টা তথ্য দিয়েছেন, “আগের রাজনৈতিক প্রভাব, যাদের খেলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না, তারা এখনো জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে অবস্থান করছেন। বেশ কয়েকটি জেলা কাউন্সিলর পলাতক বলে আমার জানা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুনেছি, কোনো কোনো প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই কারণে নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে তা আমি জানি না।”

বাফুফে নির্বাচনের ইতিহাস, পৃষ্ঠপোষকদের অভাবে ফুটবলের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “সবাই ক্রিকেটে বিনিয়োগ এবং ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় কিন্তু অন্যান্য খেলায় যেতে চায় না। বাফুফে সম্পর্কেও এমন মন্তব্য আছে যে এখানে স্পন্সরদের ৩০ শতাংশ অর্থ অন্য পকেটে চলে যায় এবং বাকি ৭০ শতাংশ ব্যবহার হয়। এভাবে হলে কেউ আসবে না। আমি বিশ্বাস করি, ফুটবলের প্রচার ও প্রসার ক্রিকেটের চেয়ে বেশি সম্ভব।”

ফুটবলের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ব্যাপারে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “এক সময় ছিল বাংলাদেশের ফুটবলে যে উন্মাদনা ছিল। এখনো আছে। গ্রামের মাঠগুলোতে ফুটবল ও ক্রিকেট দুটোই খেলা হয়। কিন্তু ক্রিকেটে ২০ জন দর্শকও থাকে না, ফুটবলে হাজার হাজার দর্শক থাকে। গাছে উঠে খেলা দেখা যায়। এসব আমরা মূলধারায় নিয়ে আসতে পারিনি। এর জন্য দায়ী ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই।”

সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন বলে জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমানে ক্রীড়ায় বিনিয়োগ খুব কম। এই অবস্থায়, বেসরকারি বিনিয়োগ আনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি এও জানান যে দেশের ফুটবলে তৃণমূল থেকে ফুটবলার না আসার দায়টি জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ডিএফএগুলোর। তিনি বলেন, “আমরা জেলার টুর্নামেন্টগুলো আবার চালু করব। এই দায়িত্ব ডিএফএর। ব্যর্থ হলে, আমি সব দায় বাফুফেকের ওপরেই দেব।”

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংস্কারের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বাজেটও বাড়ানো হয়েছে। সংস্কারের পর স্টেডিয়ামটি এই লোড সামলাতে পারবে কি না সে বিষয়ে আগে ফিজিবিলিট স্টাডি করা হয়নি। আমার কাছে সংস্কার সময়সীমা বাড়ানোর ফাইল এসেছিল। আমি নির্দেশ দিয়েছি, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। ফ্লাডলাইটের কাজ সময় মত শেষ নাও হতে পারে।”

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ক্রীড়া সংস্কারের জন্য গঠিত সার্চ কমিটি বিভিন্ন ফেডারেশনে এডহক কমিটি দিয়ে দেবে বলেও জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *