• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন |

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: রিয়াল-ডর্টমুন্ড ম্যাচে ফিরছে আগের মরশুমের ফাইনাল

ওয়েম্বলির রাতটি এখনও স্বপ্নে তাড়া করে ফুলক্রুগ, হুমেলস আর রয়েসদের। মঞ্চটা সাজানো ছিল। গ্যালারিতে হলুদের জার্সিধারীদের হর্ষধ্বনি। আর মাত্র একটু পথ পেরোলেই মাথায় উঠত ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। কিন্তু সেই একটু পথটা বাকি রইল পেরোনোর। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে সবকিছু হয়ে গেল হতাশার গল্প। এই হতাশার পেছনে আছে আরেকটি গল্প, যা বললে পুরো ছবিটি স্পষ্ট হবে না।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চটিকে যদি দুইভাগে ভাগ করা হয়, তাহলে একটি ভাগে থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ আর বাকি দলগুলো থাকবে আরেক ভাগে। কারণটা বুঝতে গেলে সামান্য পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই চলবে। রিয়ালের ১৫টি শিরোপার বিপরীতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসি মিলানের শিরোপাসংখ্যা মাত্র ৭টি। এমনকি দ্বিতীয় আর তৃতীয় দল দুটির শিরোপাসংখ্যা যোগ করলেও রিয়ালের সমান হয় না। এইটুকুই বলে দেয়, এই মঞ্চে রিয়ালই শেষ কথা! যখন তারা বিশ্রামে যায়, তখন বাকিরা এক-আধটা শিরোপার স্বাদ পায়। এটুকু তথ্য ডর্টমুন্ড সমর্থকদের ক্ষতের ওপর কিছুটা সান্ত্বনা দিতে পারে।

পরিসংখ্যানের খেলা বাদ দিয়ে আরেকটু গভীরে যাওয়া যাক। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল সবসময় অন্য রকমের দল। এখানে তুমুল ঘূর্ণিঝড়ও যেন তাদের টলাতে পারে না। উদাহরণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে তাকালেই হয়। প্রথম লেগে শক্তিশালী সিটির সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। আর ফেরার ম্যাচে ইতিহাদে যথার্থ অর্থেই সিটির একের পর এক আক্রমণের ঢেউ সামলে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে যায় রিয়াল। তারপর টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকেট।

সেমিফাইনালেও একই রকম নাটকীয়তা। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে রিয়ালের তরি পার করান অজানা হোসেলু। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল এমনই, হারার আগে যারা কখনও হারে না এবং নায়ক হতে পারে যে কেউ। এমনকি হওয়া ম্যাচও যেন জিতে নিতে পারে তারা। অনেক সময় তাদের খেলতে দেখলে মনে হয় অদৃশ্য কোনও জিন সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছে! এই দলকে হারাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ডর্টমুন্ডকে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে। হয়তো কোনও অদৃশ্য শক্তির সাহায্যও লাগতে পারে। কিন্তু সেসব কিছুই হয়নি, ২-০ গোলে জিতে রিয়াল যথারীতি সমৃদ্ধ করেছে নিজেদের অর্জনের ভান্ডার।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে, রিয়াল-ডর্টমুন্ডের সেই ম্যাচ শেষ হয়েছে আর চার মাস আগে। হঠাৎ করে সেই ম্যাচ নিয়ে এত আলোচনা কেন? আলোচনার কারণ, আবার এই দুই দলই একই মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে। না, এবার ফাইনালে নয়, প্রথম রাউন্ডেই দেখা হচ্ছে দুই দলের। রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। আর প্রাসঙ্গিকভাবেই ম্যাচটির আগে বারবার ফিরে আসছে চার মাস আগের সেই ফাইনাল। সঙ্গে আছে ডর্টমুন্ডের প্রতিশোধের প্রসঙ্গও।

এই চার মাসে অবশ্য বদলে গেছে অনেক কিছু। বিশেষ করে ডর্টমুন্ডেই বদলের ধাক্কাটা বেশি লেগেছে। এই লেখার শুরুতে যে তিনজনের নাম নেওয়া হয়েছে, সেই ফুলক্রুগ, হুমেলস আর রয়েসদের কেউ এখন আর ডর্টমুন্ডের সঙ্গে নেই। পরিচিত এই মুখগুলো গত মৌসুম শেষে দল ছেড়েছেন। এমনকি কোচ এদিন তেরজিচও বিদায় নেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে হারের পর। তার জায়গা এখন দলটির দায়িত্বে আছেন ক্লাবটির সাবেক ফুটবলার ৩৬ বছরের নুরি সাহিন। তিনিই মূলত এখন ডর্টমুন্ডকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে প্রাপ্তিটা এখনও অম্ল-মধুর। বুন্দেসলিগায় ৭ ম্যাচ শেষে ডর্টমুন্ডের অবস্থান ৭তম।

অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই ম্যাচে জিতে এ মুহূর্তে সবার ওপরেই আছে তারা। দুই ম্যাচে জিতেছে এমন দল আছে আরও ৭টি। কিন্তু গোল ব্যবধানে ডর্টমুন্ডের কাছে কেউই নেই। দুই ম্যাচে ১০ গোল করার বিপরীতে দলটি হজম করেছে মাত্র ১ গোল, অর্থাৎ গোল ব্যবধান ৯। আর দুই ম্যাচ শেষে এই তালিকায় রিয়ালের অবস্থান ১৭তম। প্রথম ম্যাচে আতলান্তার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতলেও পরের ম্যাচে লিলের বিপক্ষে রিয়াল হেরেছে ১-০ গোলে।

মাঠের খেলাতেও এখনও পুরোপুরি নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি রিয়াল। ডর্টমুন্ডের মতো পরিবর্তন অবশ্য রিয়ালেও এসেছে। রিয়াল ছেড়েছেন বহু যুদ্ধের কাণ্ডারি টনি ক্রুস। বিপরীতে দলে তারুণ্য শক্তি বাড়াতে এসেছেন কি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *