মতিঝিলের হলিডে মার্কেট: কম দামে কেনাকাটার স্বর্গ
গজ কাপড় মাত্র ৫০ টাকা, স্নিকার্স ২০০ টাকা, থ্রি-পিস ৫০০ টাকা, ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় নায়রা কাটের ওয়ান-পিস ও গাউন, আর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিছানার চাদর। এত কম দামে এসব পণ্য রাজধানীর হলিডে মার্কেট ছাড়া আর কোথাও মিলবে না। শুধু শুক্র ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত দোকান সাজে বলেই এর নাম হলিডে মার্কেট।
২০২২ সালের এপ্রিলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনেই ক্রেতা হয়ে গিয়েছিলাম। তখন পর্যন্ত মহামারি চলছিল। তবে হলিডে মার্কেটে গিয়ে করোনার তেমন প্রভাব বোঝার উপায় ছিল না। মনে হয়েছিল করোনার মতো ভয়াবহ ভাইরাসও এই মার্কেটে তেমন আঘাত করতে পারেনি।
গত শুক্রবার প্রতিবেদক হিসেবে সকালে মার্কেটে গিয়ে চোখ কপালে উঠে! মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তার দু’পাশে পা রাখার জায়গাটুকু নেই। আড়াই বছর আগে যেখানে দুটি ভাসমান দোকানের মাঝে ফাঁকা জায়গা ছিল, সেখানে এখনও নতুন দোকান গজিয়ে উঠেছে। কাঁচাবাজার, সুগন্ধের দোকান ছাড়াও আরও কত নতুন দোকান! ভাসমান এই মার্কেটে আমাকে ‘কষ্ট করে’ হাঁটতেই হয়নি, ক্রেতাদের ভিড়ে ভেসে গেছি প্রথম প্রান্ত থেকে শেষ প্রান্তে!
সাজানোর নানা সামগ্রী, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম, ব্যাগ, শাড়ি, নারী-পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, বিছানার চাদর, বাসনকোসন, মগ, চামচ, শুকনা খাবার, শাকসবজি, এমনকি মাছও পাওয়া যায়। কিছু কিছু জিনিসের মান ও সংগ্রহ চোখ ধাঁধানো। তার ওপর দামও অন্য বাজারের অর্ধেক। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই মার্কেট থেকে কীসে কী কম দামে কিনতে পারা যায়।
**থ্রি-পিস**
**লোন বা মহেশ্বরী থ্রি-পিস থেকে শুরু করে ভার্সিটি বা অফিসে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।** এছাড়া ওয়ান-পিস বা টু-পিসও কিনতে পাওয়া যাবে। আর মেয়েদের জন্য আরামদায়ক জিনস মাত্র ১৫০ টাকায়! বিভিন্ন ধরনের টপও আছে, দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। সুতির ওড়না কিনতে পারবেন ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।
**শাড়ি**
এই বাজারে সাদাসিধা সুতির শাড়ি মিলবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। আবার জর্জেট, কাতান বা জরি-চুমকি করা শাড়ি পাওয়া যাবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। অবশ্যই বুঝতেই পারছেন, এগুলো ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’। তবে দেখতে একেবারে নতুনের মতোই। অনেকে কাঁথা বানানোর জন্যও এখান থেকে রঙিন সুতির শাড়ি কেনেন।
**ব্যাগ**
এই বাজারে এক্সপোর্ট কোয়ালিটি আর সেকেন্ড হ্যান্ড ব্যাগের সংগ্রহ দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আমি নিজেই ২০০ টাকায় নকশা করা কাপড়ের ব্যাগ, সংগ্রহ রাখার জন্য ১০০ টাকায় একটি মিনি ব্যাগ (একটা ব্যাগের মতোই তবে অনেক ছোট) আর কৃত্রিম চামড়ার একটি ব্যাগ ৫০০ টাকায় কিনেছি। আর সুন্দর স্যান্ডেলের সংগ্রহও চোখে পড়ার মতো।
**বিছানার চাদর**
**হোমটেক্সের সুতির বিছানার চাদরগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।** ঘুরে ঘুরে দেখেশুনে কিনলে খুব ভালো মানের চাদর পেতে পারবেন অল্প দামে। ডিজিটাল প্রিন্টেড কুশন মিলবে মাত্র ৫০০ টাকায়। আর ডাইনিং টেবিলের জন্য কুরুশকাঁটা দিয়ে বোনা দস্তরখানাও পাওয়া যাচ্ছে। ঘরের জন্য পর্দা কিনতে পারবেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পিস।
**চামচ**
এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের চামচের দারুণ সংগ্রহ রয়েছে। ঘুরে ঘুরে কিনলে ইউনিক কিছু চামচ আপনার চোখে পড়বেই। আর শোকেস সাজিয়ে রাখার নানা অনুষঙ্গও পাওয়া যাবে। আমি নিজে ৩৩০ টাকায় ছোট ছয়টি কাপের সেট কিনেছি। শোপিস হিসেবে রাখলেও দেখতে সুন্দর লাগে। আবার চা-কফি, আইসক্রিম, দই বা ফিরনিও পরিবেশন করা যাবে এতে। এই কাপের সঙ্গে মিলিয়ে ছোট ছয়টি চামচও কিনেছি। ফলে এগুলো আমি ডেজার্ট পরিবেশন করার পাত্র হিসেবেই ব্যবহার করব। আপনিও ঘুরে ঘুরে এমন আরও নানা কিছু কিনতে পারেন।
**লেইস**
৫০ টাকায় যা লেইস কিনতে পারবেন, তা শাড়ি, ব্লাউজ আর থ্রি-পিসে ব্যবহার করার পরেও কিছু থাকবেই। একসঙ্গে অনেক লেইস একটু সস্তায় কিনতে এ বাজার সেরা। অনেকে পর্দা, মশারি, বিছানার চাদরেও লেইস ব্যবহার করেন। ১০ টাকা পিসে সুন্দর সুন্দর কাপড়ের টুকরাও বিক্রি হচ্ছে। এই কাপড়গুলো বাচ্চাদের পোশাক তৈরি করতে বা টেবিল মোছার মতো নানা কাজে ব্যবহার করতে পারেন। অবাক হবেন না, মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় এই বাজার থেকে একটি থ্রি-পিস, একটি শাড়ি, একটি বিছানার চাদর, একটি ব্যাগ, একটি ওড়না আর এক ডজন চামচের সেট কিনে ফেলতে পারবেন!
২০০৭ সালে এই বাজারের কার্যক্র