• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

সেবা বঞ্চনা চলবে না

**জনগণকে সেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না**

৫ আগস্ট থেকে স্থানীয় সরকারে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। অন্যান্য স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অনেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। এ কারণে অনেক চেয়ারম্যান কার্যালয়ে আসছেন না বা গ্রেপ্তার এড়াতে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যুর সনদ দেওয়ার মতো কাজও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হয়। স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও চেয়ারম্যানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, 5 আগস্টের পর থেকে সারা দেশে ১,৪১৬ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত রয়েছেন। এরা মোট ইউপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা রয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই পরিস্থিতির কারণ কী? যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে (যাদের বেশির ভাগ হত্যা মামলা), তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে কি? বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন মূলত শহরাঞ্চলে হয়েছে, যা সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং ব্যক্তিগত কারণে করা বলে জানা যায়।

এই সংকট সমাধানের জন্য সরকার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের খণ্ডকালীনভাবে নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু এটি খুব কার্যকর হয় নি। একটি প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা কার্যালয়ে এলেও সেবাপ্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপর একটি খবরে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে গরিবদের ভাতা প্রদানের কাজও বন্ধ রয়েছে।

বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করেছে। এখন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরও বরখাস্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হবে তা ভেবে দেখা উচিত। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, প্রশাসক নিয়োগ করা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, অনুপস্থিত চেয়ারম্যানদের প্রথমে নোটিশ দিয়ে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপস্থিত হতে বলা উচিত। যদি তারা উপস্থিত না হয়, তবে তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করে সদস্যদের মধ্যে থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যদি ইউনিয়ন পরিষদগুলো ভেঙে দেওয়া হয় অথবা চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়, তবে প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যখন সবাই স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো শক্তিশালী করার দাবি করছে, তখন অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে প্রায় ‘স্থানীয় সরকারশূন্য’ করে ফেলেছে। এটা সত্য যে আগের আওয়ামী লীগ সরকার স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে দলীয়করণ করেছিল। তারা বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে বাধা দিচ্ছিলেন এবং নির্বাচনগুলো হয়ে উঠেছিল তাদের ইচ্ছা পূরণের হাতিয়ার।

যদিও মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। আমরা আশা করি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ, সেবাপ্রার্থী জনগণকে সেবা থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *