• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন |

কনসার্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে!

বছরখানেক বিরতির পর কনসার্টে ফিরেছে অর্থহীন। এর মধ্যে হাজির হয়েছে তাদের নতুন অ্যালবাম ‘ফিনিক্সের ডায়েরি ২’। ২ অক্টোবর উত্তরার অর্থহীনের স্টুডিওতে প্রথম আলোর সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন অর্থহীনের প্রতিষ্ঠাতা, বেজ গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন, যিনি শ্রোতাদের কাছে ‘বেজ বাবা’ সুমন নামে পরিচিত। সঙ্গে ছিলেন ড্রামার মার্ক ডন।

আপনি বাইরের শিল্পীদের সঙ্গেও নিয়মিত সহযোগিতা করেন। এর মধ্যে বিখ্যাত বেজ প্লেয়ার ম্যাগাজিনে আপনাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেটা নিয়ে কি বলতে চান?

সুমন: কিছু দিন খুব অসুস্থ ছিলাম। হঠাৎ আমার পেজে দেখলাম, ‘বেজ প্লেয়ার’ ম্যাগাজিনের একজন সম্পাদক বলছেন, ‘আপনার সাক্ষাৎকার নিতে চাই।’ এর আগেও ‘বেজ প্লেয়ার’ ম্যাগাজিনে আমার নাম উঠেছে। এবার তারা সাক্ষাৎকার নিতে চান। ছোটবেলায় আমি সঞ্চয় করা টাকায় পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে ‘বেজ প্লেয়ার’ ম্যাগাজিন কিনে পড়তাম। সেই ম্যাগাজিনটি আমাকে কাভারে নিয়েছে, এটি আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। স্টোরিটি প্রকাশের পর স্টুয়ার্ট হ্যামসহ আরও অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আমি স্টুয়ার্ট হ্যামের অনুরাগী। তাঁর একটি ভিডিও দেখে আমি মিউজিক স্ল্যাপ শিখেছি। তিনি আমার সাবচেতন গুরু। স্টিভ হ্যারিসকে দেখে আমি বেজ বাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। স্টুয়ার্ট হ্যামকে দেখে মনস্থির করেছিলাম, আমি স্ল্যাপ বাজাব। তাঁকে নিয়ে একটি ইনস্ট্রুমেন্টাল তৈরি করেছিলাম। পরে ন্যাম শো-তে (সংগীত প্রযোজক, মিউজিশিয়ানদের আসর) দেখা হয়েছিল। ওটার সিডি তাঁকে দেখিয়েছিলাম। পরে তিনি আমাকে ইমেল করেছিলেন। আমি তাঁকে লিখলাম, যদি সুযোগ পাই, আমরা সহযোগিতা করব। ইনস্ট্রুমেন্টালটি তাঁকে পাঠিয়ে রেখেছিলাম।

১৩ মাস পর তিনি আমাকে সেই ইনস্ট্রুমেন্টালটি পাঠালেন। এটি শুনে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমার ইনস্ট্রুমেন্টালে স্টুয়ার্ট হ্যাম বাজিয়েছেন। এর চেয়ে বড় অর্জন কি আর কিছু হতে পারে। তাঁর একটি অ্যালবামের দুটি গানে সহ-প্রযোজনা করেছি। এরপর মিউজিকে আর কী চাইতে পারি।

‘অর্থহীনে গণতন্ত্র বলে কিছু নাই’: সুমন

আপনি যখন বেজ বাজানো শুরু করেছিলেন, তখন ব্যান্ড সংগীতে বেজ গিটারের খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো না। বেজ গিটারে আগ্রহী হলেন কেন?

সুমন: স্টিভ হ্যারিসকে দেখে আমার মনে হলো, বেজ বাজিয়ে ফাটিয়ে ফেলতে হবে। বয়স কম ছিল। খুব দ্রুত বাজাতে হবে। আমার ইচ্ছা ছিল, দেশের সবচেয়ে দ্রুত বেজিস্ট হব। আমি সেকেন্ডে প্রায় ১৪টি নোট বাজাতে পারছিলাম। আমি বেজকে ভালোবাসি। এখন আমি গান গাই, লোকজন আমাকে গায়ক হিসেবে চেনে। কিন্তু এখনো নিজেকে বেজ প্লেয়ার হিসেবেই চিন্তা করি। আমি প্রথমত একজন বেজ প্লেয়ার, দ্বিতীয়ত গীতিকার, তৃতীয়ত ভোকালিস্ট, চতুর্থত সুরকার, পঞ্চমত মিউজিক প্রযোজক।

এখন আমি গান গাই, লোকজন আমাকে গায়ক হিসেবে চেনে। কিন্তু এখনো নিজেকে বেজ প্লেয়ার হিসেবেই চিন্তা করি।- সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন, অর্থহীন

বর্তমান সময়ে একজন বেজ প্লেয়ারকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়; বেজ প্লেয়ারদের ভূমিকা কতটা বদলেছে?

সুমন: মানুষ এখনো বেজকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি, যতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কারণ, একটি সময়ে এসে ড্রামস ও বেজ কিবোর্ডে দেওয়া খুব সহজ হয়ে গেছে। কিবোর্ডই বেজ বাজাতে পারে। ফলে ড্রামার ও বেজিস্টরা একটি বড় সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছেন। এর জন্য বেজ ততটা এগোতে পারেনি।

তবে ভোকালিস্ট পরিচয়ের পাশে বেজিস্ট পরিচয়টি কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে গেছে…

সুমন: এটি বর্তমানে যে পরিমাণ আছে, এটি তার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল। যেহেতু আমি গান গাই, তাই বেজ নিয়ে আর এগোতে পারিনি। কারণ, সবাই আমার গান শুনতে শুরু করেছে। তবে আবার ভোকালিস্ট হিসেবে আমি যে পরিমাণ নাম অর্জন করেছি, তার সাথে বেজও আছে। কারণ, কনসার্টে গিয়ে বেজ নিয়ে কিছু না কিছু করছি। আপনি যতই বলুন, আমি একজন বেজিস্ট।

জীবনে আপনি আর কী চান?

সুমন: একটি. আমার মেয়ে-ছেলে যেন একটি ভালো, সুন্দর ও নিরাপদ জীবন পায়। এটা প্রায় পূরণ করে ফেলেছি। আমার একটি রোড ট্রিপ বাকি আছে। দুই. ইংল্যান্ড থেকে নর্দান আয়ারল্যান্ড পর্যন্ত রোড ট্রিপ করব। আমি ছবি তোলা ভালোবাসি। ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফি করব। যুক্তরাষ্ট্রে আরও একটি রোড ট্রিপ বাকি আছে।

তিন. ‘ফিনিক্সের ডায়েরি ২’ অ্যালবামটি প্রকাশ করব। চার. ভক্তদের জন্য আরও ছয়টি কনসার্ট করব। এসব ছাড়া চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। এগুলো শেষ হ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *