ভিনিসিয়ুসের ব্যালন ডি’অর জেতা শুধুই সময়ের ব্যাপার
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যালন ডি’অর জেতাটা এখন আর শুধু সময়ের অপেক্ষা। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই বাকি। যদি না হঠাৎ করেই কোনো বড় ঘটনা ঘটে, তাহলে আগামী সোমবার এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি উঠবেই।
রিয়াল মাদ্রিদও তাদের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ফুটবলারকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে রেখেছে। এখন প্যারিসের পডিয়ামে শুধু নাম উচ্চারণ হওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে ব্যালন ডি’অর জিতে ভিনিসিয়ুস বাকিদের ছাড়িয়ে গেলেন?
ব্যালন ডি’অর জেতার লড়াইয়ে কাগজে-কলমে এগিয়ে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। ২০১৮ সালে লুকা মডরিচ ব্যালন ডি’অর জেতার আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এখন মেসি কিংবা রোনালদো কেউই ইউরোপে খেলেন না। মেসি খেলছেন ইন্টার মায়ামিতে এবং রোনালদো নিয়েছেন সৌদি প্রো লিগের পথ।
এবারের ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় তাদের নামও নেই। ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শুরু থেকেই ভিনিসিয়ুস ছাড়া আর যাদের নাম ছিল, তারা হলেন রদ্রি, জুড বেলিংহাম এবং দানি কারভাখাল। কিন্তু অনেক হিসাব-নিকাশের পর শেষ পর্যন্ত দুই জনের নামে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় লড়াইটি, ভিনি এবং রদ্রি। শেষ মুহূর্তে এসে ভিনিসিয়ুসের পক্ষেই ভারী হয়ে ওঠে পাল্লা। বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমীর চোখে এখন তিনিই ব্যালন ডি’অরের প্রথম দাবিদার।
এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচনা করা হবে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স। অর্থাৎ, একজন ফুটবলারের এই সময়কালীন পারফরম্যান্সের ওপরই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হবে। ফলে, এই মৌসুম কে কীভাবে শুরু করেছেন, তা একেবারেই বিবেচ্য হবে না।
এরপরও অবশ্য কিছু আছে! যেহেতু ব্যালন ডি’অর ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক, সেখানে রদ্রির চোট এবং বেলিংহামের ছন্দহীনতার বিপরীতে ভিনিসিয়ুসের বর্তমান পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই তাকে ভোট আদায়ে এগিয়ে রাখবে। গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করলেও ভিনিসিয়ুস ছিলেন রীতিমতো অনবদ্য।
ব্যালন ডি’অরের অঙ্কে নতুন মোড়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বারবার নিজেকে মেলে ধরেছেন এই উইঙ্গার। সাম্প্রতিক সময়ে বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। গত কয়েক মৌসুমের পারফরম্যান্স দিয়েই এমন ধারণা গেড়েছেন ভিনি, যা এবারও অটুট আছে। ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার ম্যাচটি তো অনেকদিন মনে রাখার মতো। বিশেষ করে শেষ দুটি গোল মৌসুমের সেরা গোলের তালিকায় থাকার মতো।
এর আগেও গত মৌসুমে দলের প্রয়োজন হওয়ার সময়, জ্বলে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস। লা লিগায় রিয়ালের হয়ে ২৬ ম্যাচে ১৫ গোলের পাশাপাশি সহায়তা করেছেন আরও ৬ গোলে। একই মৌসুমে ভিনিসিয়ুসের মতো বেলিংহামও কিন্তু ভালোই করেছেন। এমনকি গোলের ব্যাপারে বেলিংহাম কিন্তু ভিনিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।
লা লিগায় রিয়ালের হয়ে ২৬ ম্যাচে ১৫ গোলের পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস সহায়তা করেছেন আরও ৬ গোলে। তবে বেলিংহাম আলো ছড়িয়েছেন মূলত মৌসুমের শুরুর দিকে, আর ভিনিসিয়ুস মৌসুমের শেষ দিকে। অর্থাৎ মৌসুমের যে সময়টাতে ফল নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়, সে সময়টাতে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন ভিনিসিয়ুস। পাশাপাশি এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে মৌসুমের প্রথম লেগে ভিনিসিয়ুস কিন্তু চোটে পড়ে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে সম্ভাব্য ৩,৪২০ মিনিটের মধ্যে ভিনিসিয়ুস খেলেছেন ১,৮৭২ মিনিট (৫৪%)। তবে প্রায় অর্ধেক সময় না খেলেও লিগের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ভিনি। মৌসুমে লিগে তাঁর ২১ গোলে অবদান রাখার কথা তো আগেই বলা হয়েছে।
ভিনিসিয়ুস সাদায় ‘জেকিল’, হলুদে ‘হাইড’র ফলে মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখা খেলোয়াড়দের মধ্যে ৬ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। অথচ ১,৯০০ মিনিটের কম খেলা কোনো খেলোয়াড়ই ১৫-এর চেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখতে পারেননি। এ ছাড়া শট নেওয়া কিংবা সুযোগ তৈরিতেও ভিনিসিয়ুসের অবস্থান ছিল সেরা পাঁচে। যা তাঁর মাঠে থাকা সময়ের বিপরীতে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই।
আর চ্যাম্পিয়ন