রায়ালকে মোকাবিলায় বার্সার প্রস্তুতি কতটা?
হান্সি ফ্লিকের নেতৃত্বে বার্সেলোনার খেলায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। লা লিগায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগেও দাপট দেখিয়েছে তারা। বিশেষ করে ঘরের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ঘোষণা দিয়েছে তারা ফিরে এসেছে। তবে এল ক্লাসিকো না জিতলে তো ফেরার স্বাদ পূর্ণ হবে না!
আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়েই এই ম্যাচে নামবে বার্সা। তবে লা লিগায় টানা ৪২ ম্যাচে অপরাজিত রিয়ালের বিপক্ষে কাজটা সহজ হবে না। প্রশ্নটা হল, দুর্দান্ত এই রিয়ালের মোকাবিলা করতে বার্সেলোনা কতটা প্রস্তুত?
বার্সার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স
সাম্প্রতিক সময়ে বার্সার সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে তাদের আক্রমণভাগ। অথচ গত কয়েক মৌসুমে আক্রমণভাগেই সবচেয়ে বেশি ভুগতে দেখা গিয়েছে এই দলকে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি দল ছাড়ার পর বার্সা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। এরপর আক্রমণে নানা রকম সমন্বয়ের চেষ্টা করা হলেও কোনোটাই কার্যকর হয়নি।
তবে ফ্লিক দলকে এই স্থবিরতা থেকে বের করে এনেছেন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত বার্সার আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। লিগের প্রথম ১০ ম্যাচে বার্সা গোল করেছে ৩৩টি। এর আগে লা লিগায় ১০ ম্যাচে শেষ এত গোল করেছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ। আর বার্সেলোনা শেষ এত গোল করেছিল ২০০৮-০৯ মৌসুমে। এই পরিসংখ্যানেই বোঝা যাচ্ছে এবার বার্সার আক্রমণভাগ কতটা পরিণত ও ক্ষুরধার।
আক্রমণভাগের এই সদস্যদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়াটা বার্সাকে বাকি দলগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে। এছাড়াও আক্রমণভাগের সঙ্গে মিডফিল্ড এবং রক্ষণভাগের সমন্বয়ও চোখে পড়ার মতো। পেদ্রি এবং গাভির আঘাত থেকে ফিরে আসা বার্সার জন্য স্বস্তির খবর। সব মিলিয়ে এই নতুন রূপের আক্রমণভাগ রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বার্সাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
ফ্লিকের কৌশল
বার্সার এই বদলের জন্য ফ্লিকের কৌশলেরও বিশেষ কৃতিত্ব দিতে হয়। তিনি পেদ্রিকে মিডফিল্ডের যেকোনো জায়গায় খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। পাশাপাশি রাফিনিয়াকে ফলস নাইন হিসেবে খেলানোও বার্সাকে বেশ সুবিধা দিচ্ছে।
শুধু গোলই নয়, খেলার ধরনেও ফ্লিক অনেক পরিবর্তন এনেছেন। গতিময়তার সঙ্গে পাসিংয়ের দারুণ সমন্বয় দেখা যাচ্ছে দলটিতে। অতিরিক্ত পাসিং ফুটবল কিংবা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বার্সার খেলার মধ্যে দারুণ ভারসাম্য এসেছে।
রক্ষণভাগের উন্নতি
আক্রমণভাগের মতো না হলেও বার্সার রক্ষণও উন্নতিতে একেবারে পিছিয়ে নেই। লা লিগায় ১০ ম্যাচে তারা ১০ গোল হজম করেছে। তবে বার্সার আসল চ্যালেঞ্জটা আসবে রক্ষণে। রিয়ালের আক্রমণভাগ তারকায় ভরপুর। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে দলীয় সমন্বয় দিয়ে ভিনিসিয়ুস-এমবাপ্পেদের সামলাতে পারে বার্সা। পাশাপাশি ফ্লিক নিশ্চয়ই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েই দলকে মাঠে নামাবেন।