বাংলাদেশি নারী ফুটবল দলের সিনিয়রদের প্রয়োজন
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার অনেক সিনিয়র খেলোয়াড়কে দলে ভাড়ছেন না। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামানো হয়নি মাঝমাঠের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মারিয়া মান্দাকে। তাকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় মাত্র ৮২ মিনিটের জন্য। ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার মাঠে নামেন ৬৯ মিনিটের জন্য। অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মাসুরা পারভীন এবং ফরোয়ার্ড সানজিদাকে পুরো ম্যাচের জন্য বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মনিকা চাকমা। এই খাগড়াছড়ির মেয়ে বলেছেন, কোচ সিনিয়র খেলোয়াড়দের পছন্দ করেন না। তবে দলের জন্য সিনিয়রদের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন মনিকা। এ কথা তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।
"আমরা ছোট, হুট করে মাঠে নামালে ভালো খেলতে পারব না। খেলতে পারলেও তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারব না," বলেছেন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার।
পিটার বাটলারও সিনিয়রদের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন কিনা, তা বলা যাচ্ছে না। তবে আগামীকাল ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচে আরও সিনিয়র খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন নতুন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার।
কাঠমান্ডুর আর্মি হেডকোয়ার্টার মাঠের অনুশীলন শেষে আজ মুনকি বলেছেন, "পাকিস্তানের সঙ্গে যে দলটা নামিয়েছিলেন কোচ, সেখান থেকে কয়েকটা বদল হতে পারে। সিনিয়র আপারা তো আছে।" তার মানে কি সিনিয়রদের দলে রাখছেন কোচ? মুনকির উত্তর, "মনে হয়, আজকের অনুশীলনে সেটাই বোঝা গেল।"
সিনিয়র খেলোয়াড়দের দু-তিনজনকে কোচের কাছে গুরুত্ব না পাওয়াটা দলের জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করেন অনেক খেলোয়াড়। মনিকা এ কথা মুখ ফুটে বললেও অন্যরা আড়ালে ফিসফাস করেন। সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে মুনকির মতে, "ওনারা (সিনিয়ররা) এতদিন খেলে এসেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা আছে।"
ভারত খুব একটা ভালো দল নয়। আমরা যদি নিজেদের খেলা খেলি, আল্লাহর ইচ্ছায় জিতবই। ড্র নয়, আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামব।
সিনিয়রদের বাদ দিয়ে নতুন খেলোয়াড়দের মাঠে নামালে কিছু সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন মুনকি আক্তার। তিনি বলেছেন, "আমরা ছোট, হুট করে মাঠে নামালে ভালো খেলতে পারব না। হয়তো খেলব, তবে ওদের সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।"
পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হওয়া ডিফেন্ডার কোহাতি কিস্কু মনে করেন, ভারতের বিরুদ্ধে সিনিয়রদের বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন কোচ। তিনি বলেছেন, "আপারা খেলবে (ভারতের বিরুদ্ধে)।" তিনি আরও বলেন, "আমরা যদি সুযোগ পাই, সবাই সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলব।"
কোচ যেভাবে খেলতে বলেছেন, সেভাবেই খেলবেন বলে জানিয়েছে কোহাতি। তিনি বলেন, "কোচ যেগুলো দেখিয়েছেন, আমরা মাঠে সেভাবেই করব। দেখি কাল কী হয়। তবে আমাদের ডিফেন্স লাইন সব সময় ঠিক রাখতে হবে। কারণ, ওরা (ভারত) অনেক দ্রুত গতির। আমাদের দলকে নিরাপদ রাখতে হবে।"
ভারত খুব বড় দল। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে তারা ছয়বারের পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন। এটি কি বাংলাদেশের জন্য চাপ? এমন প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসীভাবে বলেছেন মুনকি, "চাপ কাজ করবে না। কারণ, আপারা তো খেলে এসেছেন। আপারা বলেছেন, কোনো চাপ নেওয়ার দরকার নেই। ভারত আহামরি টিম না। আমরা যদি নিজেদের খেলা খেলি, আল্লাহর ইচ্ছায় জিতবই। ড্র নয়, আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামব।"
ভারতের কাছে ২-০ গোলে হারলেও সেমিফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ। তবে হারের চিন্তা মাথায় আনছে না বাংলাদেশ। মুনকি বলেছেন, "আমরা হারতে চাই না। জিততে চাই। কোচ বলেছেন, আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে। যা তিনি অনুশীলন করিয়েছেন, সেভাবেই খেলব।"
শুধু তাই নয়। বড় লক্ষ্যের কথাও বলছেন মুনকি, "আমরা এখানে এসেছি ট্রফি নেওয়ার জন্য। ট্রফি নিয়েই যাব, এটাই আমাদের আশা।"