• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন |

এল ক্লাসিকো আজ, নায়ক হবেন কে?

আজকের এল ক্লাসিকোর নজর কেড়ে নিতে কে প্রস্তুত?

একটা ম্যাচ কত বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে! একটা ম্যাচ একজন খেলোয়াড়ের ক্লাব সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিতে পারে, দর্শকদের ভাবনায় তারতম্য ঘটাতে পারে এমনকি প্রতিপক্ষের কৌশলও বদলে দিতে পারে। প্রমাণ চান? রাফিনিয়াকে দেখুন। ২০১২ সালের মাঝামাঝি লিডস থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর তিনি তেমন কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারেননি। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলছে, বার্সেলোনা অন্য ক্লাবের প্রস্তাবের অপেক্ষায় রাফিনিয়াকে নিয়ে। যে আশানুরূপ খেলতে পারছে না, তাকে রেখে কী লাভ! এই মৌসুমের শুরু থেকে হান্সি ফ্লিকের অধীনে রাফিনিয়ার পরিবর্তন noticeable। কিন্তু তাও তিনি লামিনে ইয়ামাল, রবার্ট লেভানডফস্কিদের মতো বাজ ক্যাড়ার নজর কাড়তে পারছিলেন না।

তারপর তিনদিন আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচ। রাফিনিয়া যেন মনে মনে বললেন, এই সুযোগটা হাতছাড়া করা যাবে না, সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করার সুযোগ এটা। আর সেটা তিনি কী সুন্দরভাবেই না করলেন। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলে যে কেউই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবেন। তারপর সে যদি বায়ার্ন হয়, যারা গত ৯ বছর ধরে বার্সেলোনাকে হারাতে পারেনি। রাফিনিয়ার সেই হ্যাটট্রিকের ফলে অবশেষে বার্সা ৪-১ গোলে সেই কাঙ্ক্ষিত জয়টি পায়।

সেই ম্যাচের পরে হঠাৎ করে যেন মনে হতে থাকে, বার্সেলোনার দলের জন্য রাফিনিয়া আসলেই একজন খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তাটাও আপাতত বাদ দিতে হয় বার্সেলোনাকে। বরং আজ রাতের এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে রাফিনিয়া এখন বার্সেলোনার সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সন্দেহ নেই যে এই মুহূর্তে তাকে নিয়েও আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে।

এল ক্লাসিকো মানে মৃত্যু-জীবনের লড়াই। এটি ছিল রাফিনিয়ার আলোয় আসার গল্প। এবার তার মতো আরেকজন ব্রাজিলিয়ানের গল্প শুনুন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই যিনি আলোকবৃত্তে থাকার অভ্যাস করেছেন। ২০১৮ সালে ফ্লেমেঙ্গো ছেড়ে যখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন, তখন থেকেই তাকে নেইমারের পরবর্তী যুগের ব্রাজিলের সম্ভাব্য মহাতারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের প্রাথমিক দিনগুলোতে তাকে অবশ্য করিম বেনজেমাদের ছায়ায় থাকতে হয়েছে। কিন্তু সেই ছায়া থেকে আলোয় আসতে বেশি সময় লাগেনি ভিনির। ২০২১-২২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হন তিনি, পরের মৌসুমে জায়গা পান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা একাদশে, আর গত মৌসুমে তো রিয়ালের লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার। যার পুরস্কার হিসাবে তিনি আগামী সোমবার প্যারিসে ব্যালন ডি’অর পেতে যাচ্ছেন বলেই শোনা যাচ্ছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, রদ্রিগোদের নিয়ে রিয়ালের যে তারকাদের সমাবেশ, সেখানে পারফরম্যান্সের বিচারে সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভবত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই। তার ওপর চ্যাম্পিয়নস লিগে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, অসাধারণ হ্যাটট্রিক। সেই হ্যাটট্রিকের ফলে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ রিয়াল জিতে নেয় ৫-২ গোলে। সেই ম্যাচে ভিনির খেলা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে সেরা সময়ের মেসি-রোনাল্ডোর কথা, রিয়াল কিংবদন্তি এমিলিও বুত্রাগুয়েসোর কথা মনে এসেছে পেলের। স্বাভাবিক ভাবেই আজ রাতের এল ক্লাসিকোতে দুই দল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হবে ভিনির নিয়েই।

এল ক্লাসিকোয় কেমন হতে পারে রিয়াল-বার্সার একাদশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ম্যাচ শেষেও আলোটা ভিনি ধরে রাখতে পারবেন, না তাকে ম্লান করে উজ্জ্বল হয়ে উঠবেন রাফিনিয়া? বিস্ময়করভাবে এই মৌসুমের পরিসংখ্যান রাফিনিয়াকেই এগিয়ে রাখে। বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রাফিনিয়া ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন এখন পর্যন্ত, গোল করেছেন ৯টি এবং আরও ৮টি গোল করিয়েছেন। অন্যদিকে রিয়ালের হয়ে ভিনি ১৪টি ম্যাচে গোল করেছেন ৮টি, করিয়েছেন ৭টি। তবে এল ক্লাসিকোতে আগের পরিসংখ্যান, মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস, এসব খুব একটা কাজে আসে না। এখানে মূল জিনিস মর্যাদার লড়াই, স্নায়ুর লড়াই। এখানে প্রতিটি ম্যাচ তারকা খ্যাতি এনে দেয়ার মঞ্চ।

এখন দেখার অপেক্ষা, সেই মঞ্চে আজ ভিনি আলো কেড়ে নেন, নাকি রাফিনিয়া? নাকি দুজনকেই ম্লান করে অন্য কেউ হয়ে ওঠেন ক্লাসিকোর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *