• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন |

El Clasicোতে Mbappe কী করবেন তা জানেন

ক্লাসিকোতে কী করনীয় জানেন তো এমবাপে?

আশিকুজ্জামান টুলুর সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপের পরিচয় নেই হয়তো, কিংবা হতেও পারে। কারণ পৃথিবী যে গোলাকার, ফলে সময়ের স্রোতে তাদের দেখা হওয়াও অসম্ভব নয়। তবে তারা দুই ভিন্ন বিশ্বের বাসিন্দা বলে এখনও সে সুযোগ হয়নি। অনুমান করা যায়, সঙ্গীতের ভাষা আসলেই সার্বজনীন। কী ভাবে, সেটা এখানেই বলছি। নব্বইয়ের দশকে টুলু লেখা এবং সুর করা ‘স্টার্স টু’ মিক্সড অ্যালবামে একটি জনপ্রিয় গানের শুরুটা ছিল এ ভাবে: "কত রাত কেটে গেছে নির্ঘুম প্রহরে…"। এমনই নির্ঘুম রাত এমবাপের জীবনেও এসেছে। ছেলেবেলায় হাজার বার স্বপ্ন দেখেছেন, একদিন রিয়াল মাদ্রিদে খেলবেন। গত জুলাইয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমবাপের রিয়াল মাদ্রিদে আনুষ্ঠানিক সম্মুখীকরণ অনুষ্ঠানে, অজান্তেই সেই লাইনটি অন্য ভাষায়, অন্য সুরে প্রকাশ করেছিলেন ফ্রান্সের এই তারকা: "অসংখ্য রাত স্বপ্ন দেখে কেটেছে, একদিন রিয়াল মাদ্রিদে খেলব।" এরপরের ঘটনা অবশ্য আপনারা জানেন।

রিয়ালে এমবাপের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয়েছে। আগস্টে সাদা জার্সিতে তার অভিষেকও হয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই কি এমবাপে রিয়াল সমর্থকদের মনে রাখার মতো কিছু করেছেন?

যদি প্রশ্নটির উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে এটাও বলতেই হবে, রিয়ালে এমবাপের শুরুটা খারাপও নয় একেবারে। সহজ ভাষায় বললে, সন্তোষজনক। তবে তার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

বড় মাপের খেলোয়াড়রা সমর্থকদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যান বড় মঞ্চে। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব ‘এল ক্লাসিকো’, এমনই এক মঞ্চ। রিয়াল এবং বার্সেলোনার এই ঐতিহ্যবাহী দ্বন্দ্বের নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় কাদের? ইউটিউব বা পুরনো অ্যালবাম থেকেই উঠে আসেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, জাভি, করিম বেনজেমা। অন্য ভাষায় বললে, এই মঞ্চের কিংবদন্তিরা বার্নাব্যু, ক্যাম্প ন্যু বা অন্য যেকোনও জায়গাতে এই দ্বন্দ্বে অমোঘ ছাপ রেখে গেছেন। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, এমবাপে কি তাদের পথ ধরতে পারবেন?

জীবন-মৃত্যুর মধ্যেই তো ক্লাসিকো। রিয়ালে যাত্রা শুরু হলেও আসলে সেই যাত্রা এখনও সত্যিকারের শুরু হয়নি এমবাপের কেরিয়ারে। আজকের রাতের ক্লাসিকোটিই তাঁর কাছে এই ঐতিহ্যবাহী দ্বন্দ্বের মঞ্চে অভিষেক। অনেকের চোখেই এমবাপের রিয়াল কেরিয়ারে ডাইভিংয়ের সেই স্প্রিংবোর্ড এই প্রথম ক্লাসিকো। সেই স্প্রিংবোর্ডের এক কোণে দাঁড়িয়ে দুলতে দুলতে গ্রেগ লুগানিসের (ডাইভিং কিংবদন্তি) মতো পানিতে ঝাঁপ দিয়ে নিখুঁত একটি ডাইভের মতো পারফরম্যান্স কি আজ বার্নাব্যুতে তাঁর কাছ থেকে দেখা যাবে? সেটিই পারলে, এই ম্যাচ থেকেই সত্যিকারের অর্থে শুরু হবে তাঁর রিয়াল কেরিয়ার। পৃথিবীতে সবচেয়ে হট এবং জনপ্রিয় এই ক্লাব দ্বন্দ্বে ডি স্টেফানো, মেসি, রোনালদোদের রেখে যাওয়া পরম্পরাটিকে তখন অনুসরণ করবেন এমবাপেও। সেটি আসলে কিংবদন্তি হওয়ার পথ।

এর বিপরীতে তর্ক উঠবে, মাত্র ২৫ বছর বয়সেই কি এমবাপে কিংবদন্তি হয়ে উঠেননি? ফ্রান্সের হয়ে ১৯ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন। সে সময় পেলের সঙ্গে তাঁর তুলনাও হয়েছিল। চার বছর পরের বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন। সেবার শিরোপা জিততে না পারলেও, সবচেয়ে বেশি গোল করে সোনার বুট জিতে এসেছেন তিনি। সেই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে রুপার বলও জিতেছিলেন এমবাপে। রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগে পিএসজিতে তাঁর কেরিয়ারও ভোলার উপায় নেই। লিগে ছয়বার শিরোপা জিতেছেন, এবং ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করে মাদ্রিদে এসেছেন। কিংবদন্তি হতে এত কিছুই তো আর দরকার নেই!

মেসিকে বিশ্বসেরা হিসেবে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দিয়েছেন মার্তিনোনা। তবে তা নাও হলেও চলবে। তবে চ্যালেঞ্জটি অন্য জায়গায়। তার কিছুটা নিজের কাছেই, কিছুটা এই বিশ্বের সামনেও। রিয়ালে যোগ দেওয়া এমবাপের বহুকালের আশা। কত কঠিন পরিশ্রম করে সেই স্বপ্নপূরণ করেছেন, তারপর রিয়ালের ইতিহাসে সম্মান এবং দ্বন্দ্ব, দুই দিক থেকেই সবচেয়ে বড় যে ম্যাচটিকে বিবেচনা করা হয়, সেখানে কিছু না দিলেই নয়! খেলাধুলায় ‘টিকিং এভরি বক্স’ বলে একটা কথা আছে। বিশ্বকাপ, নেশনস লিগ, লিগ আঁ—এসব বক্সে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে টিকচিহ্ন আঁকতে পেরেছেন এমবাপে। ক্লাসিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *