রাশিয়ার ‘ডি ক্যাপ্রিও’ যুদ্ধের ময়দানে যোগ দিলেন
রাশিয়ার রোমান বুরৎসেভ ২০১৬ সালে একটি ডেটিং সাইটে নাম লিখিয়েছিলেন। তার আশা ছিল, নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে পাবেন এবং একটি পরিবার গড়ে তুলবেন। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী রোমানের ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন সংস্থার নজর কাড়ে।
রোমানের ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইল ছবি নিয়ে মানুষ কথা বলতে থাকে। কতটা মিল রয়েছে হলিউড তারকা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর সঙ্গে, সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। রোমান, ডি ক্যাপ্রিওর থেকে বয়সে আট বছরের ছোট এবং ওজনে প্রায় ১০০ পাউন্ড বেশি। সেকারণেই রোমানকে ‘লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর রাশিয়ান মোটা ভার্সন’ বলা হতে থাকে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকারা তার ছবি প্রকাশ করে।
রোমানের চেহারা, বিশেষ করে তার নীল চোখগুলি ডি ক্যাপ্রিওর মতো। আর সেকারণেই তিনি একেরপর এক ফটোশুট এবং এইরকম বিভিন্ন রকম বাণিজ্যিক কাজের প্রস্তাব পেতে থাকেন। রোমান এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন।
তারপর আসে সরাসরি অভিনয় বা পারফরম্যান্সের (লাইভ পারফরম্যান্স) সুযোগ। একটি শপিং মলে একটি ‘নকল জাহাজ’ তৈরি করা হয়। সেখানে রোমান ‘টাইটানিক’ সিনেমায় ডি ক্যাপ্রিওর মতো নায়িকাকে নিয়ে পোজ দিতে থাকেন। মহিলারাও রোমানের সাথে ‘টাইটানিক’র বিখ্যাত পোজ দেন। পেছনে ‘মাই হার্ট ইজ গো অন’ গান বাজতে থাকে।
কিন্তু রোমানের এই জৌলুস সময়ে বিঘ্ন ঘটে কোভিড-১৯ মহামারীর। ২০২০ সালে, কোভিডের কারণে রোমানের কাজ দ্রুত কমতে থাকে। আয়ও তলানিতে এসে ঠেকে। আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত রোমান বাড়িতে বসে অতিরিক্ত খাবার খেতে থাকেন। তার ওজন অনেকটাই বেড়ে যায়। আর তিনি আর ডি ক্যাপ্রিওর মতো দেখান না।
বয়সও বেড়েছে। আর আবার আলোচনায় ফিরে আসার আশাও ক্ষীণ হয়ে যায়। ৪১ বছর বয়সী রোমান বাধ্য হয়েই একটি সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রাশিয়ান সরকারের ফোন কলের জবাব দেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীতে নাম লেখানোর জন্য তাকে সেই ফোন করা হয়েছিল।