বাংলাদেশ ভুটানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে
ভুটানের বিপক্ষে জিতার আশায় মাঠে নেমে দারুণ খেলা দেখাচ্ছে বাংলাদেশি মেয়েরা। সাফ নারী ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে তারা ভুটানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ৫-১ গোলে এগিয়ে আছে।
দলের দুই মেধাবী খেলোয়াড় তহুরা খাতুন এবং অধিনায়ক সাবিনা খাতুন জোড়া গোল করেছেন।
গোলের শুরুটা ঘটে ঋতুপর্ণা চাকমার জাদুকরী ক্রস থেকে, ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই তিনি দারুণভাবে গোল করেন। চোট পাওয়া শামসুন্নাহার জুনিয়রের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া সাগরিকা থেকে বল নিয়ে তহুরাকে পাস করেন, যিনি তা ঋতুপর্ণাকে দিয়েছিলেন। ঋতু কিছুটা জায়গা তৈরি করে বক্সের কোনা থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল লাইনে বল ঠেলে দেন।
১১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ঋতুর ক্রস থেকে সাগরিকার হেডবল একটি ভুটানি ডিফেন্ডার সেভ করেন। তবে ১৪তম মিনিটেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোল আসে। শিউলির কাছ থেকে বল নিয়ে তহুরা বক্সের সামনে থেকে শরীর ঘুরিয়ে ভুটানের গোলকিপার সংগীতা মনগেরকে বিভ্রান্ত করেন। ভারতের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়া তহুরা তখন বাঁ পায়ের জোরদার শটে জালে বল ঢুকিয়ে দেন।
২৫তম মিনিটে সাবিনার বল ভুটানের সাইড পোস্টে লাগে। কিন্তু পরের মিনিটেই মনিকার ক্রস থেকে আসা বলটি তিনি সহজেই গোলে পরিণত করেন। এটা টুর্নামেন্টে তার প্রথম গোল।
সেমিফাইনালের আগের দিন অসুস্থতার কারণে অনুশীলন করতে না পারায় সাবিনার খেলার নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। কিন্তু মাঠে তিনি নিজেই সেই সব শঙ্কার অবসান ঘটিয়েছেন।
৩৪তম মিনিটে তহুরা একবার আবারও জ্বলজ্বল করেন। তিনি বাঁকাভাবে বাঁ পায়ের জাদুকরী শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন। তার মাত্র দুই মিনিট পরে ভুটানের গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে ফাঁকা পোস্টে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করেন সাবিনা।
দ্বিতীয় গোলটি খাওয়ার পর ভুটানি মেয়েরা মাথা তুলে খেলার চেষ্টা করেছিল। বাংলাদেশের রক্ষণেও দুবার বল নিয়ে গোলের আশা তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু ভুটান গোল করতে পারে কি না সেটিই প্রশ্ন, কারণ তাদের মন ছিল গোল বাঁচাতেই। তবুও, ৪০তম মিনিটে ভুটানের স্ট্রাইকার দেকি হাজম একটি গোল শোধ করেছেন।
গত সাফের সেমিফাইনালে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে ভুটানকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারের ব্যবধানটি আরও বড় হচ্ছে কি না, সেটি দ্বিতীয়ার্ধে দেখার বিষয়।