• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন |

শিশুর খাওয়ার অভ্যাস উন্নত করার জন্য অভিনব ছয়টি উপায়

শিশু কে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ৬ টি সৃজনশীল উপায়

অনেক অভিভাবকের এই অভিযোগ, ‘আমার বাচ্চা কিছুই খেতে চায় না।’ শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সুষম খাওয়ার ডায়েটের খুব প্রয়োজন। কিন্তু অভিভাবকদের কেটে পড়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। নিজের সন্তান কে খাবার খাওয়াতে আদর করেন, আর চাপাচাপি করে দৌড়াদৌড়ি করেন সন্তানের পিছুপিছু খাবার নিয়ে। শিশুকে খাওয়ানো যেন একটা যুদ্ধ। আর কিছু কিছু অভিভাবক বিরক্ত হয়ে ভর্ৎসনা ও করেন। অনেক অভিভাবক আবার মজার মজার ভিডিও দেখিয়ে শিশুদের খাওয়ান। এতে মোবাইলের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ে, আর শিশুর মধ্যে উল্টো প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকে৷ এগুলো ছাড়া শিশুদের খাওয়ানোর জন্য কিছুটা সৃজনশীল উপায় বেছে নিতে পারেন। খাবারের প্রতি আদর জাগানোর জন্য শিশুদের আকর্ষণীয় কিছু উপায়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

প্রথমত, শিশুদের খাবার খাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শিশুরা বড়দের মতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খেয়ে নেবেন না। হতে পারে আপনি ভাবছেন, শিশুকে খাইয়েই অফিসে ছুটে যাবেন কিংবা অন্য কাজ করবেন। কিন্তু অভিভাবকরা প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার সময় অপেক্ষা করতে হবে, যার ওই সময়ে তেমন কোনো তাড়া বা কাজ থাকবে না।

শিশুদের খাবার খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজন অবশ্যই সময়, উৎসাহ, এবং সহযোগিতা। শিশুদের বয়সের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন খাবারের গুনাবলী সম্পর্কেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। শুধু মাত্র মা’দের ওপর এত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। পরিবারের সকলকে এ দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। আর এমন খাবার যেমন- চিপস, চকোলেট, প্যাকেটের জুস বা কোমল পানীয়ের মতো দিয়ে শিশুদের ছোট পেট ভরা যেন না হয়ে যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।

সাত রঙের সাত ধরনের ফলমূল এবং শাক-সবজি সাজিয়ে দিতে পারেন থালায়। শিশুদেরও ওই সাজানোর কাজে অংশগ্রহণ করাতে পারেন। টমেটো, গাজর, বেগুন, বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম, ব্রকলির মতো রঙিন সবজি ছাড়াও, মৌসুমী বিভিন্ন ফল এই কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেসব খাবার কাঁচা খাওয়া যায় না, সেগুলো সেদ্ধ করে নিতে পারেন। এসব খাবার কাঠিতে গেঁথে সাত রঙের সবজি শাসলিক তৈরিও করা যায়। যদিও সব সময় সাত রকম রং একসাথে পাওয়া যায় না। কোন রঙটি বাদ, সেটা শিশুকে খুঁজতে দিন। ওই রঙের ফল বা সবজি পাওয়া যায় কিনা সেটা নিয়েও শিশুর সঙ্গে আলোচনা করা যায়। এই রকম রংধনুর সবজি তৈরি ও খাওয়ার মাধ্যমে শিশুরা আনন্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পুষ্টিও পাবে। আর শিশুর মননশীলতা বিকাশেও এই আয়োজন অবশ্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কাস্টার্ডের মতো খাবার তৈরি করার সময় শিশুকেও সাথে নিন। শিশু নিজেই তার পছন্দ মতো ফলগুলো ছড়িয়ে দিতে পারে। আবার স্বচ্ছ গ্লাসে দই, ফল, বাদাম ইত্যাদি স্তরের পর স্তর করে সাজাতে শিশুকে উৎসাহিত করতে পারেন। নিজের সৃজনশীলতায় সাজানো খাবারটি সে খেতে উৎসাহ পাবে।

শিশুকে খাবার দিয়ে কিছু তৈরি করতে দিতে পারেন। যেমন- আপেল অথবা আধসেদ্ধ আলুর পাতলা টুকরোর মধ্যে সে বিভিন্ন আকৃতি তৈরি করতে পারে টুথপিকের সাহায্যে। আপনি গাছের মতো করে ফুলকপি কিংবা ব্রকলি সাজিয়ে দিতে পারেন শিশুর বাটির ভাতের উপর। নাশতার প্লেটে সেদ্ধ ডিম দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে হাসিমুখ। এভাবেই বিভিন্ন খাবার বিভিন্নভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে শিশুর আগ্রহ বাড়ানোর জন্য।

শিশুদের খাবারে লবণ দেওয়া হয়েছে কিনা কিংবা, কোন খাবারে লবণ আছে, শিশুর চোখ বেঁধে স্পর্শ, স্বাদ আর গন্ধ দিয়ে তা বলে দেয়ার খেলাও খেলতে পারেন। এই খেলার মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করবে।

যদি শিশুর শীতল খাবার খেলে তেমন কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে শিশুর জন্য মাঝেমধ্যে ফলের রস অথবা দুধ দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করে দিতে পারেন বাড়িতে। অবশ্য আইসক্রিমের সব উপকরণ মিশিয়ে একটি ছাঁচে নিয়ে আরেকটু আনন্দদায়ক কাজও করা যায়। একটি ব্যাগে বরফের টুকরো নিয়ে তার মাঝখানে ছাঁচটি রেখে শিশুকে ঝাঁকাতে বলতে পারেন। আইসক্রিম বানানোর খেলায় নিজেই উল্লেখযোগ্য ‘অবদান’ রাখতে পেরে সে আনন্দিত হবে।

শিশুকে সঙ্গে নিয়ে সবজি বাগান করা যায়। নিজের বাগানের সবজি খাওয়ার আনন্দ একেবারেই আলাদা। একটি টবে শিশুকে বীজ বুনিয়ে দিন নিজের হাতে। সে নিয়মিত সেই টবে পানি দেবে। অঙ্কুরোদ্গমের খুশির দৃশ্য তার নতুন প্রাণে দোলা দিয়ে যাবে। সে প্রাণের স্পন্দনের মর্ম উপলব্ধি করতে পারবে। এইভাবেই গাছ গজায়, ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, আর ও


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *