• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

যাথার্থবাদী উদ্যোগে মূল্যবান বাজি

ন্যায্য পদক্ষেপের অভাবে সফলতা পাওয়া কঠিন

পরিবহন খরচ ও সুবিধার দিক বিবেচনায় কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য ট্রেনের ব্যবহার অনেক দেশেই সাধারণ ও জনপ্রিয়। যদিও বাংলাদেশে একসময় কৃষিপণ্যের জন্য বিশেষ ট্রেন বা ট্রেনের বিশেষ বগি ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিককালে সেগুলোর চলন অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরিবর্তে এখন মূলত সড়কপথে কৃষিপণ্য পরিবহন করা হচ্ছে।

যদিও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নতির ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখন সরাসরি ফসল তাদের জমির থেকে এবং অন্যান্য পণ্য তাদের গুদাম থেকে বিক্রি করতে পারেন। তবে সড়কপথে পরিবহন রেল ও নদীপথের তুলনায় অনেকটাই ব্যয়বহুল। এ কারণে বাংলাদেশে উৎপাদনকারীর কাছ থেকে ভোক্তার পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর খরচ অনেক বেড়ে যায়। এই বর্ধিত খরচের পেছনে দুটি প্রধান কারণ হলো বহুস্তরের মধ্যস্বত্বভোগী এবং সড়কগুলোতে ক্ষমতাসীন দল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা নেওয়া চাঁদা।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে রেলওয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এসব ট্রেনে আধুনিক লাগেজ ভ্যানে ফল, সবজি এবং ফ্রিজযুক্ত লাগেজ ভ্যানে জমাট মাছ, মাংস ও দুধ পরিবহন করা যাবে। ফলে একদিকে যেমন কৃষিপণ্য ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য কম খরচে ঢাকার বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে, তেমনি রেলওয়েরও আয়ের একটি নতুন পথ খুলে যাবে।

তবে এই উদ্যোগকে সফল করতে গেলে রেলওয়েকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। "প্রথম আলো"র খবর অনুযায়ী, খুলনা-ঢাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু করা বিশেষ ট্রেনগুলো শুরুতে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। কৃষকরা বলছেন, এসব ট্রেনের প্রচার যথেষ্ট করা হয়নি। খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা জানান যে, ট্রাকে করে ঢাকায় সবজি পাঠাতে কেজিতে দুই টাকা খরচ পড়ে, কিন্তু ট্রেনে পাঠাতে হলে মোকাম থেকে স্টেশন পর্যন্ত পণ্য নিয়ে আসা এবং স্টেশন থেকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচিসহ তাদের মোট কেজিতে দ্বিগুণেরও বেশি খরচ পড়ে যায়।

এই কারণে কৃষক বা ব্যবসায়ীদের জমি কিংবা স্থানীয় বাজার থেকে নিকটস্থ রেল স্টেশনে পৌঁছানো এবং ঢাকায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে পাইকারি বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলোর কথা তারা তুলে ধরেছেন, সেগুলো বেশ বাস্তবসম্মত। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করা গেলে কৃষিপণ্য পরিবহনের ট্রেন উদ্যোগটি যত ভালোই হোক না কেন, তা সফল হওয়া কঠিন হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের কৃষিপণ্য উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে ঢাকার বাজারে পণ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রেলপথ সড়কপথের একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যাতে ট্রেনে পণ্য পরিবহনে আগ্রহী হন, সে জন্য ব্যাপক প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই। একইসাথে, তারা যেসব বাস্তব সমস্যার কথা বলছেন, সেগুলোরও সমাধান করা অত্যাবশ্যক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *