হাসপাতালগুলোতে ওপেনএআইয়ের ট্রান্সক্রিপশন টুল ব্যবহারের ঝুঁকি
চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি তৈরি করতে যারা দক্ষ, সেই ওপেনএআই সংস্থা তাদের তৈরি করা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) টুল ‘হুইস্পার’ নামের ট্রান্সক্রিপশন টুলে বড় ধরনের গোলমাল দেখতে পাচ্ছেন। এই গোলমালের জন্য এআই টুলটা এমন কথা বানিয়ে ফেলছে যা ভুল বা মূল লেখায় নেই এবং এমন কথাও বানিয়ে ফেলছে যা কল্পিত। তাই হাসপাতালে এই টুল ব্যবহার করা বিপজ্জনক বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে সাক্ষাৎকারের অনুবাদ, সামান্য ট্রান্সক্রিপশন এবং ভিডিওতে সাবটাইটেল বানানোর জন্য হুইস্পার ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসার লিখিত রেকর্ড ট্রান্সক্রিপশন করার জন্যও এই টুল ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু হুইস্পার এমন তথ্য দিচ্ছে যেখানে কখন কখন জাত-পাত দেখানোর মত কথা বের করে ফেলছে, সহিংসতাপূর্ণ কথা লিখছে বা চিকিৎসার এমন পদ্ধতির কথা লিখছে যা কল্পনার বাইরে। এই টুলের এমন ভুল ভুল তথ্যের জন্য হাসপাতালে এটার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
একটা গবেষণায় দেখা গেছে, হুইস্পারের ট্রান্সক্রিপশনে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল তথ্য পাওয়া গেছে। কেবল তাই নয়, ১৩ হাজারের বেশি সঠিক অডিও ক্লিপেও ১৮৭টি ভুল তথ্য পাওয়া গেছে। এইভাবে লক্ষ লক্ষ রেকর্ডিংয়ে অসংখ্য ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে এই ট্রান্সক্রিপশন টুল।
হুইস্পার ব্যবহার করে শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাবটাইটেলও বানানো হয়ে থাকে। এই বিষয়ে গ্যালাডেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি অ্যাকসেস প্রোগ্রামের পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান ভোগলার বলেছেন, শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য সঠিক এবং ভুল তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন, যার ফলে তারা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া