• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন |

ঘর বদলের আগে যা যা বিবেচনা করবেন

বাসা বদলানোর আগে ভাবার বিষয়গুলো

প্রয়োজন অনুযায়ী লোকজন বাসা বদলায়। কখনো একটা শহর থেকে অন্যটায় আবার কখনো একই শহরের এক এলাকা থেকে আরেকটায়। আয়ের সঙ্গে খরচের হিসাব না মিলে গেলে বিপদে পড়তে হয়। তাই বাজারের এই উর্ধ্বগতির সময়ে থাকার জায়গা নিয়ে অনেককেই আপস করতে হয়।

আমার এক আত্মীয়ের গল্প দিয়ে শুরু করি। দুই দশকের বেশি সময় স্বামীর সঙ্গে ঢাকা শহরে বসবাস করেছেন। এর মধ্যে তাঁদের একমাত্র সন্তান প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে হাইস্কুলেরও শেষভাগে। সন্তানের অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন, ঢাকা ছাড়বেন। আয়ের সঙ্গে খরচের হিসাব মেলাতে গিয়েই সচেতনভাবে তাঁরা ঢাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কোথায় যাবেন, গ্রামে? সেখানে সন্তানের স্কুল নিয়ে একধরনের দোটানা তৈরি হলো। ঢাকা শহরের ভালো স্কুলে পড়াশোনার পর হঠাৎ করে গ্রামের স্কুলে যেতে সন্তানও রাজি হচ্ছিল না। শেষমেশ তাঁরা গ্রামের কাছাকাছি জেলা শহরে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিলেন। সন্তানকে ভর্তির পর, স্কুলের কাছাকাছি বাসা নিলেন। দুই মাসের মধ্যে আয়-ব্যয়ের একটা ভারসাম্য তৈরি হলো তাঁদের পরিবারে। দুই বছরের মধ্যে তাঁরা বেশ কিছুটা সঞ্চয়ও করে ফেলেছেন। আমার ওই আত্মীয় জানালেন, ‘ঢাকার তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে এখানে বড় বাসা ভাড়া নিয়েছি, প্রতিদিনের শাকসবজি কম দামে ফ্রেশ খাচ্ছি। সন্তানের স্কুলের খরচ যে পরিমাণ কমেছে, সেটাও অভাবনীয়। বাড়তি দুজন গৃহশিক্ষক দিয়েও আগের চেয়ে অনেক টাকা বেঁচে যাচ্ছে। আগে ভেবেছিলাম, সন্তানের এসএসসির পর ঢাকায় ফিরব। কিন্তু এখন সে-ই চাইছে কলেজের পর যেতে। আগে মাস শেষে কয়েক হাজার টাকা ঘাটতি পড়ত, এখানে আসার পর মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় হচ্ছে।’

২০২৩ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই জরিপে দেখা যায়, নিয়মিত গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আবার শহর থেকে গ্রামে ফেরা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে গত চার বছরে। ২০২১ সালে প্রতি হাজারে ৪৮ জন গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে এসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। একইভাবে এক শহর ছেড়ে অন্য শহরে স্থানান্তরের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জরিপে জানা যায়।

নানা কারণেই মানুষকে বাসা বদলাতে হয়। তবে কেন বাসা বদলাচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছে থাকা জরুরি। গ্রাম থেকে শহরে হোক বা শহর থেকে গ্রামে, শহরের মধ্যেও এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় বাসা বদলের আগে যে বিষয়গুলো ভাবতে হবে—

এটা খুবই বড় একটি ভাবনা। কারণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে যানজটে নাকাল হয়ে পড়েন যাত্রীরা। তাই আপনার কাজের জায়গা থেকে বাসার দূরত্ব কেমন, সেটি বুঝে বাসা ভাড়া নেওয়া উচিত। ২০১৮ সালে ‘ঢাকা মহানগরীর যানজট: আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা’ শিরোনামের এক গোলটেবিল বৈঠক থেকে জানা যায়, যানজটের কারণে রাজধানীতে একটি যানবাহন ঘণ্টায় যেতে পারে গড়ে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। এবার ভাবুন, আপনার বাসা যদি বেশি দূরে হয় তাহলে কতটা সময় পথে ব্যয় করতে হবে। এর প্রভাব আপনার অফিস ও পরিবারে যেমন পড়বে, নিজের স্বাস্থ্যেও কম পড়বে না। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মুহম্মদ সিরাজ-উল-ইসলাম বলেন, ‘যানজটে বসে থাকলে মানসিক চাপ তৈরি হয়। নানা রকম দুশ্চিন্তা ভর করে। এই মানসিক চাপ সব ধরনের রোগের উৎস। চাপের ফলে নাগরিকদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, যুদ্ধংদেহী মনোভাব চলে আসে।’

এ ছাড়া প্রতিদিনের পথে যদি কয়েক ঘণ্টা করে সময় নষ্ট হয়, তাহলে মানুষের সাধারণ আচরণেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তাই বাসা অফিসের যতটা সম্ভব কাছাকাছি নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে সব ধরনের সুবিধা মিলবে।

দীর্ঘদিন একটি এলাকায় থাকার পর সেই জায়গার প্রতি একধরনের মায়া তৈরি হয়। তাই নানা সমস্যার পরও সহজে অনেকে বাসা বদলাতে চান না। এই সুযোগে বাড়িওয়ালা বছর বছর ভাড়া বাড়াতে থাকেন। অথচ নিজে উদ্যোগী হয়ে একটু খুঁজলেই দেখবেন আপনার বাসার চেয়ে আধুনিক সুবিধার বাসা হয়তো তার চেয়ে কম ভাড়ায় পেতে পারেন। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ হলো—আপনার আয়ের সর্বোচ্চ এক-চতুর্থাংশ হবে আপনার বাড়িভাড়া। তাই বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় বিষয়টি মাথায় রাখবেন। আপনার বেতন যদি হয় ৮০ হাজার টাকা, তাহলে যে বাসার পেছনে আপনার সর্বোচ্চ ২০ হাজার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *