• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন |

বাঁ পায়ের এবং বাঁ পথের ম্যারাডোনা

এ পৃথিবী ছেড়ে গেলেন তিনি প্রায় চার বছর আগে, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বরে। বেঁচে থাকলে আজ ডিয়েগো ম্যারাডোনার বয়স হতো ৬৪। এ গ্রহের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা এই ফুটবলারের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে এই লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করা হচ্ছে। বিপ্লবী হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না এই লোকের!
ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে পরিচয়ের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নাকি এই কথা মনে হয়েছিল এমির কুস্তুরিকার।
সার্বিয়ার বিখ্যাত সিনেমা পরিচালক কুস্তুরিকা ম্যারাডোনা নামে একটা ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন, ২০০৮ সালে যেটি প্রথম দেখানো হয় কান চলচ্চিত্র উৎসবে। খুব কী মনোমুগ্ধকর কোনো সিনেমা নয়। অন্তত হোয়েন ফাদার ওয়াজ অ্যাওয়ে ফর বিজনেস বা টাইমস অব দ্য জিপসিজ–এর মতো সিনেমার পরিচালকের কাছে যে প্রত্যাশা থাকে, সেটির ধারেকাছেও যেতে পারেননি কুস্তুরিকা। অথচ ম্যারাডোনাকে নিয়ে ডকুমেন্টারিটি বানাতে দুই বছরের মতো সময় নিয়েছেন পরিচালক, বেশ কয়েকবার ম্যারাডোনার সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
এগুলোর কোনো ছাপই পড়েনি সিনেমায়। শুধু তাঁর বলা কথাটিই দর্শকের মনে দাগ কাটে বেশ—ফুটবল খেলোয়াড় না হলে এই লোক নিঃসন্দেহে বিপ্লবী হতেন!
আচ্ছা, এটাও কি খুব নতুন উপলব্ধি? চে গুয়েভারার দর্শন ধারণ করেছিলেন, ফিদেল কাস্ত্রোকে যিনি বলতেন ‘দ্বিতীয় বাবা’, ডান হাতে চে আর বাঁ পায়ে কাস্ত্রোর ট্যাটু এঁকে ঘুরতেন, তিনি বিপ্লবী হবেন না তো আর কে হবে!
বিখ্যাত উরুগুয়েয়ান উপন্যাসিক ও সাংবাদিক এদুয়ার্দো গ্যালানো, যিনি নিজেও সারা জীবন দক্ষিণ আমেরিকানদের ওপর হওয়া অত্যাচার-অবিচার নিয়ে লিখে গেছেন, তিনি একবার বলেছিলেন, ‘ম্যারাডোনার কন্ঠই অনুরণিত হয়ে বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী ও শোষকদের দিকে অস্বস্তিকর সব প্রশ্ন ছুড়ে দিতে অনেককে সাহস জুগিয়েছে।’
আসলেই তো। নিজেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ না করলেও ম্যারাডোনা ছিলেন একটা রাজনৈতিক চরিত্র। তাঁর মতো আর কে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন আর্জেন্টিনা ও লাতিন আমেরিকার নিপীড়িত মানুষকে! নিজের শৈশব ও কৈশোর নিদারুণ দারিদ্র্য ও কষ্টে কেটেছে বলে সব সময় তিনি এই মানুষদের পাশে থেকেছেন, এটা অনেকেই বলে।
কিন্তু কৈশোরের পরে তো অবিশ্বাস্য রকম বিলাসবহুল জীবনযাপন করার সুযোগ পেয়েছেন, আর্থিকভাবে সমাজের উঁচু শ্রেণিতে চলে গেছেন। তবুও সেই ম্যারাডোনা কি কখনো ভুলে থাকতে পেরেছেন বঞ্চিতদের কথা?
এই তো কিছুদিন আগে ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া জীবনের শেষ সাক্ষাৎকারেও উঠে এসেছে করোনা মহামারিতে আর্জেন্টিনার দরিদ্র মানুষদের নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা।
তিনি বলেছেন, ‘রাস্তায় যখন কোনো অনাহারী শিশুকে দেখি, আমার মন কাঁদে। আমি জানি না খাবার না পেয়ে দিনের পর দিন কাটানোর কষ্ট কী! আমি আর্জেন্টিনার মানুষকে সুখী দেখতে চাই, চাই তাদের যেন কখনো কাজের আর খাবারের অভাব না হয়।’
জাদুকরি বাঁ পায়ের মতো রাজনৈতিক দর্শনেও তিনি ছিলেন বাঁ পথের পথিক। আর পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, বাঁয়ের পথে যারা হাঁটেন, তারা সাধারণত বিপ্লবীই হন।
সে জন্যই লাতিন আমেরিকা ও বিশ্বের বামপন্থী নেতা ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ম্যারাডোনার বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে কোনো সময় লাগত না। কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো, ভেনেজুয়েলার হুগো চাভেজ কিংবা বলিভিয়ার ইভো মোরালেসের পক্ষে সারা জীবন কথা বলেছেন নির্দ্বিধায়, তাদের হয়ে রাজনৈতিক প্রচারেও নেমেছেন। এই রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এটা কখনো ভাবেননি।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করে এক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ‘বুশকে থামাও’ লেখা টি-শার্ট পরে। ওই সমাবেশেই বক্তব্য দেওয়ার সময় আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে বলেছিলেন ‘মানব আবর্জনা’।
ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে লাতিন প্রতিবেশী ব্রাজিলের সঙ্গে চিরকালীন শত্রুতা আর্জেন্টিনার। কিন্তু সেই কারণে ব্রাজিলিয়ানদের পক্ষে কথা বলতেও কখনো পিছপা হননি।
ব্রাজিলিয়ান এক খেলাধুলার সাংবাদিক ২০১৪ বিশ্বকাপের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর। সাও পাওলো স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে, ভিআইপি বক্সে বসে ম্যারাডোনা সেটা দেখছেন, সঙ্গে তাঁর কিছু পরিচিত সাংবাদিক।
ব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিলমা রউসেফ কথা বলতে উঠেছেন, সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের ভিআইপি বক্স থেকেই দুয়োর শব্দ উ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *