• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন |

গবেষণা অনুযায়ী সঠিক দাম্পত্য বয়সের পার্থক্য

আদর্শ দম্পতির বয়সের ফারাক কতোকটা হওয়া উচিত হবে? গবেষণা কি বলছে

বিশ্ব জুড়ে পুরুষরা সাধারণত নারী সঙ্গীদের থেকে গড়ে ৪.২ বছরের বড়। আফ্রিকায় এই ফারাকটা সবচেয়ে বেশি– ৮.৬, আর উত্তর আমেরিকায় এটা সবচেয়ে কম, ২.২।
বয়সের এই ফারাক কিন্তু বিভিন্ন সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, প্রথা–এমন ঘন ঘন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
সম্পর্কে আদর্শ বয়সের ফারাক বলে আদৌ কি কিছু আছে? এই প্রশ্নটা এখনো প্রাসঙ্গিক। একজন ব্যক্তি তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে কী চায়, সম্পর্ক থেকে তাদের কী প্রত্যাশা–এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের মধ্যেই আছে উপরের প্রশ্নের উত্তরটাও।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কে বয়সের ফারাকের ধারণাটা একটু একটু করে পুরনো হয়ে পড়ছে।
আদর্শ বয়সের ফারাকটা কি শুধুই কল্পনা? এই প্রশ্নের উত্তরের পথে আরেকটা প্রশ্ন আসে, সম্পর্কে থাকা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কি সুখী? যদি তারা সুখী হয়, তাহলে তাদের বয়সের ফারাক শুধুই একটা সংখ্যা!
যদি তুমি একজন বয়স্ক পুরুষ হও আর তুমি যদি সঙ্গীর কাছ থেকে সন্তান চাও, তাহলে তুমি তোমার থেকে ছোট, মা হওয়ার জন্য শারীরিকভাবে দক্ষ একজন সঙ্গী খুঁজবে। মিডিয়ামে প্রকাশিত একটা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন পুরুষের জন্য সন্তান হওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়টা হচ্ছে ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫ বছরের পর থেকে সাধারণত শুক্রাণুর (স্পার্ম) গুণমান কমতে থাকে। ৪০–এর পর শুক্রাণুর সংখ্যা কমতে কমতে অর্ধেক হয়ে যায়। ৫০–এর পর অনেক পুরুষই শারীরিকভাবে সন্তানের বাবা হওয়ার মতো ‘ফিট’ থাকে না।
নারীদের জন্য ‘আর্লি টুয়েন্টিজ’ হচ্ছে মা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়। ২৫ থেকে ২৯ বছরের ভেতরে মা হওয়াও নিরাপদ। ৩০ বছর বয়সের আগে যদি প্রথমবার মা না হওয়া যায়, তাহলে এর পর থেকে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ৩০ পেরিয়ে গেলে প্রজননক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। নারীদের ক্ষেত্রে ৪০–এর পর মা হওয়া মা ও বাচ্চা দুজনের জন্যই অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
তাই তুমি যদি বাবা হতে চাও, তাহলে তোমার বয়স হতে হবে ৫০–এর কম। আর তোমার সঙ্গীর বয়স হতে হবে ৪০–এর কম। এরপরও দুজনের জন্যই কিছুটা ঝুঁকি তো থাকবেই।
সন্তান জন্মদান, কিছু হরমোনের ভারসাম্য ও যৌন–আকাঙ্ক্ষা ছাড়া দুজন বয়স্ক মানুষের মধ্যে বয়সের বিষয়টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
নারীরা পুরুষের তুলনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত পরিণত হয়। তাই ছোট বয়সী নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করাটা অনেক সংস্কৃতিতে প্রথার মতো চলে আসছে।
যে কারণে কিছু নারী সঙ্গী হিসেবে বয়স্ক পুরুষ পছন্দ করেনসাইকিসেন্ট্রালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলিয়ান স্টাডি অনুযায়ী, সুখী, সফল দম্পতিদের বয়সের ফারাক ১ থেকে ৩ বছর, যেখানে পুরুষ তাদের নারী সঙ্গীর থেকে বয়সে বড়।
বিয়ের ৬ থেকে ১০ বছরের ভেতরে যে দম্পতিদের বিচ্ছেদ হয়েছে, তাদের একটা বড় অংশের বয়সের ফারাক ৭ বা তার বেশি। অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কে বয়সের ফারাক বেশি হলে জটিলতা বাড়েও। তবে এভাবে সবাইকে বলা যাবে না। বয়সের ফারাক সাত বা তার বেশি আবার বহু বছর ধরে সুখী বিবাহিত জীবনযাপন করছে, এমন দম্পতির সংখ্যাও অনেক কম না। যখন দুজন মানুষের সম্পর্ক থেকে আশা মিলে যায়, তখন বয়স আর বিশেষ কিছু না। এমন অনেক সুখী, সফল বিবাহিত জীবনের কথা জানা যায়, যেখানে নারী বয়সে পুরুষের চেয়ে বড়।
দক্ষিণ ভারতীয় মডেল ইলিলি ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার বাবা ভেঙ্কাট রমণের বয়স ৫৩ বছর। মা পূর্ণিমার বয়স ৪৩ বছর। তারা ২১ বছর ধরে বিবাহিত জীবনযাপন করছেন। আর তারা সুখে আছেন। ইলিলি বলেন, ‘আমার বাবার একটাই চিন্তা, তার মা আগে মারা গেলে, তখন মা একা হয়ে যাবেন, আর তখন মা কীভাবে থাকবেন?’  
বয়সের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সম্পর্কে একজন আরেকজনকে সম্মান করছে কি না, ভালোবাসা আছে কি না, সম্পর্কের প্রতি দুজনেই আন্তরিক বা যত্নবান কি না। যদি দুজনের মনের মানসিকতা ও চাওয়া একই হয়, তাহলে বয়সটা শুধুই একটা সংখ্যা।
সূত্র: মিডিয়াম, সাইকিসেন্ট্রাল ও ভোগ
মুখে না বললেও নারীরা সঙ্গীর কাছ থেকে যা আশা করেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *