• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

ইন্দিরার ভাষণের পরদিন 28 গুলি ঝাঁঝরা

ভারতের প্রখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। রাজনীতি, তাঁর রক্তে গাঁথা ছিল।

কিশোর বয়সে, তিনি রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িয়ে পড়েন। ৪৯ বছর বয়সে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সরকার প্রধান ও কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে, তাঁকে অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাঁকে বিভিন্ন কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে।

রাজনীতিতে, তিনি ছিলেন অটল ও দৃঢ় মানসিকতার, তাই তিনি ‘ভারতের লোহার মহিলা’ নামে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা এবং সাহসের কথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৮৪ সালের মধ্যভাগে একটি ‘কঠিন’ সিদ্ধান্ত নেন। অচিরেই, তাঁকে সেই সিদ্ধান্তের জন্য মূল্য দিতে হয়।

১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি তাঁর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হন। তিনি ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

ফুলের বাগানে, ইন্দিরা গান্ধী এবং অন্যান্যরা: নেহরু পরিবারের মেয়ে

ইন্দিরা ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, আর মাতা ছিলেন কমলা নেহরু। তাঁর দাদা ছিলেন মতিলাল নেহরু।

মতিলাল ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর পুত্র, জওহরলাল,ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্তম্ভ। তিনিই ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

পিতামহ ও পিতার পথ অনুসরণ করে ইন্দিরা শৈশব-কৈশোরে নিজেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেন। তিনি এমনকি কৈশোরেই কিছুদিন জেলে কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

ইন্দিরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। তিনি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী এবং অক্সফোর্ডের সামারভিল কলেজে এক বছর করে পড়েছেন। তবে, তিনি তাঁর পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।

১৯৩৮ সালে, ইন্দিরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৪২ সালে তিনি ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ে করেন। ফিরোজ একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। ইন্দিরা ও ফিরোজ দম্পতির দুই পুত্র ছিল। তাঁরা হলেন সঞ্জয় ও রাজীব গান্ধী।

১৯৫৫ সালে ইন্দিরা কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন। ১৯৫৮ সালে, তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সংসদীয় পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী নির্বাচিত হন।

১৯৬৪ সালে, ইন্দিরার পিতা, জওহরলাল নেহরু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মারা যান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, জওহরলাল এর উত্তরাধিকারী হন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। তিনি ইন্দিরাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী করেন। ইন্দিরা ১৯৬৪ থেকে ‘৬৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ১৯৬৪ সালেই তিনি ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ, রাজ্যসভার সদস্য হন।

১৯৬৬ সালের ১১ জানুয়ারি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শাস্ত্রী আকস্মিকভাবে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর, ইন্দিরাকে কংগ্রেসের নেতা ঘোষণা করা হয়। ফলস্বরূপ, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৬৬ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত, ইন্দিরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশের পক্ষে একটি সুদৃঢ় ভূমিকা রাখেন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতির মামলায়, ১৯৭৫ সালের ১২ জুন, ইন্দিরাকে এলাহাবাদ হাইকোর্ট দোষী সাব্যস্ত করে। এই ঘটনার জের ধরে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন, ইন্দিরার পরামর্শে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভারত জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ, জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়।

জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিতর্কিত ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে, ইন্দিরা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমে যায়। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে, তিনি তাঁর আসনটি হারান। ঐ নির্বাচনে তাঁর দলটিও মারাত্মকভাবে পরাজিত হয়। কিন্তু, ১৯৮০ সালের নির্বাচনে, বিপুল জনপ্রিয়তার সাথে ইন্দিরা আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।

পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান

এই মেয়াদের শুরুতেই ইন্দিরার ভারতের রাজনৈতিক অখণ্ডতার বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। বেশ কয়েকটি রাজ্য ভারতীয় সরকারের কাছে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানায়। অপরদিকে, পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘খালিস্তান’ নামে একটি আলাদা ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *