• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন |

দুষ্কর্মে ‘একলা চলো রে’! শ্রীজাত ক্ষুব্ধ কপিলের অনুষ্ঠান নিয়ে

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’ নিয়ে বিতর্ক

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’ নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত কবি, গীতিকার এবং নির্মাতা শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এই অনুষ্ঠানের একটি পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গান ‘একলা চলো রে’ নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীজাত একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করেন, যেখানে তিনি এই ঘটনার বর্ণনা দেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের বহু শিল্পী, কলাকুশলী সহ অনেকেই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

শ্রীজাত নিজেকে ‘কপিল শর্মার অনুরাগী’ বলে দাবি করে তার ফেসবুক পোস্টে কপিল শর্মার অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক একটি পর্ব দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, "এবার কাজটা একটু বেশি এগিয়ে গেছে, তাই লিখছি। আমি নিজে টেলিভিশনের জন্য অনেক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছি, তাই আমি জানি পর্দায় একজন শিল্পী বা সঞ্চালক যা বলেন, সবসময় তা তাদের নিজেদের চিন্তাধারা প্রতিফলিত করে না।"

তিনি আরও বলেন, "একটি ছোট অনুষ্ঠানেও একঝাঁক লেখক কাজ করে কথাবার্তা তৈরি করে দেয়, সেই চিত্রনাট্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানের বিন্যাস ঠিক করা হয়, এবং সঞ্চালক বা শিল্পীরা যেসব কথা বলেন, তার বেশ কিছু অংশ সেই চিত্রনাট্যের আওতায় পড়ে। আমি নিশ্চিত এই শোয়েরও জন্য চিত্রনাট্য লেখার জন্য নির্দিষ্ট লেখকরা আছেন এবং নিঃসন্দেহে কপিল শর্মারও সে বিষয়ে মতামত, যোগাযোগ এবং সম্মতি আছে। তাই যদি এটা ধরে নিই, তাহলে বলতে হবে তারা সবাই, জেনে বা না জেনে, একটি ভুল করেছেন। ভুল নয়, অন্যায়। আমি স্পষ্টভাষায় তার বিরোধিতা করছি এবং এই লেখাটি প্রাথমিকভাবে তাই লিখছি।"

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ওয়েব ফিল্ম ‘দো পাত্তি’র প্রচার উপলক্ষে কপিলের শোতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন কাজল ও কৃতি শ্যানন। শ্রীজাতের অভিযোগ সেই পর্বকে কেন্দ্র করেই। সেই পর্বে কী হয়েছিল?

শ্রীজাত লিখেছেন, "কৃষ্ণ অভিষেক সম্ভবত কাজলকে বাঙালি বংশোদ্ভূত হিসেবে পেয়েই রবীন্দ্রনাথের একটি গানকে মশকরার সরঞ্জাম হিসেবে বেছে নেন। হঠাৎ তো এটা হয়নি, চিত্রনাট্য সেভাবেই সাজানো ছিল। ঠিক কীভাবে হয়েছে, সেটা আমি বিস্তারিত বলব না এখানে। কিন্তু ‘একলা চলো রে’ গানটি নিয়ে কৃষ্ণ অভিষেক যে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি এবং কথাবার্তা বলেছেন, তা সম্মান এবং শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে, অন্তত আমার চোখে। এই কৌতুক দৃশ্যের রচনা, উপস্থাপনা, অনুমোদন এবং সম্প্রচারে যারা জড়িত, তাদের সবার বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করছি। স্পষ্টভাষায়, দ্ব্যর্থহীনভাবে।"

শ্রীজাত তার পোস্টে আরও লিখেছেন, "কৌতুক আর তামাশার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা আছে, ঠিক যেমন বিদ্রুপতা ও অসম্মানের মধ্যে। সেই রেখাটা ঝাপসা হয়ে গেলে বিপদ ঘটে। কী বলছি, কাকে নিয়ে বলছি, কতটুকু বলছি, এসব না ভেবে কেবল লোক হাসানোর জন্য, টিআরপি বাড়ানোর জন্য, মানুষ একসময় নিজেদের সীমা ভুলে যায়। তখন তাকে মনে করিয়ে দিতে হয়, এই চৌকাঠ পেরোনো তোমার উচিত হয়নি। আমি সেটুকুই করছি।"

শ্রীজাত এই অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। না হলে তিনি আইনি পথ অবলম্বন করার কথাও জানিয়েছেন।

শ্রীজাতের এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পশ্চিমবঙ্গের অনেক শিল্পী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরে সুরকার ও নির্মাতা ইন্দ্রদ্বীপ দাশগুপ্ত শ্রীজাতের পোস্টটি শেয়ার করেছেন। তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও অনেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নেটফ্লিক্স বা কপিল শর্মার কোনো বক্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *