• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন |

বক্সার থেকে বিখ্যাত ব্যক্তির জন্ম

একসময়ের বক্সার বরেণ্য অভিনেতা আর নেই

বৃহস্পতিবার বিকেলবেলায় দেশের এক অমূল্য রত্ন চলে গেলেন আমাদের মধ্যে থেকে। বরেণ্য অভিনেতা মাসুদ আলী খান আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই প্রবীণ শিল্পী। তার চলে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে।

মাসুদ আলী খানের সঙ্গে পর্দায় তার সন্তানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। পর্দার বাইরেও তিনি মাসুদ আলী খানকে নিজের বাবার মতো শ্রদ্ধা করতেন। এতটাই ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতা ছিল তাদের যে শহীদুজ্জামান সেলিম তাকে "তুমি" বলে ডাকতেন। মাসুদ আলী খান তার পরিচালনায় নির্মিত নাটকেও অভিনয় করেছেন।

গতকাল বিকেলবেলায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় শহীদুজ্জামান সেলিমের। সেই কথোপকথনে মাসুদ আলী খানকে নিয়ে অজস্র স্মৃতিচারণ করেন তিনি। সেখানেই জানা যায়, একসময় বক্সার হিসেবেও বেশ সুনাম ছিল মাসুদ আলী খানের।

শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, "তার জীবন ছিল অসাধারণ। চাকরি থেকে শুরু করে অভিনয়, সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন একজন নায়ক। এর পাশাপাশি তিনি বক্সার হিসেবেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। পাঁচ বছর আগে আমি আমার পরিচালনার একটা নাটকে বক্সিং নিয়ে একটি দৃশ্য তৈরি করার পরিকল্পনা করি। সেজন্য বক্সিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে আনি। যদিও নাটকটা ছিল হাস্যরসাত্মক, তবুও মাসুদ ভাই অনেক খুশি হয়েছিলেন।"

মাসুদ আলী খানের শেষ দিনগুলো কষ্টের ছিল। কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, "আমি এখনও অভিনয়ে থাকতে পারতাম।"

পর্দায় শহীদুজ্জামান সেলিম নামে পরিচিত হলেও তার শংসাপত্রে নাম রয়েছে শহীদুজ্জামান খান। এ নিয়ে বেশ অভিমান করতেন মাসুদ আলী খান। শহীদুজ্জামান সেলিমের নামের শেষ থেকে "খান" অপসারণ করার বিষয়ে মাসুদ আলী খান বারবার প্রশ্ন করতেন তাকে।

শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, "আমার শংসাপত্রে নাম রয়েছে শহীদুজ্জামান খান। কিন্তু পর্দায় আমি ‘খান’ বাদ দিয়ে শুধু শহীদুজ্জামান সেলিম ব্যবহার করি। আর এতেই খুব অভিমান হতো মাসুদ ভাইয়ের। প্রায়ই তিনি আমাকে বলতেন, ‘তুই কেন ‘খান’ বাদ দিলি?’"

শুধু পর্দাতেই নয়, শহীদুজ্জামানের বাসায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন মাসুদ আলী খান। শুটিংয়ের বাইরেও অনেক দিন-রাত একসঙ্গে কেটেছে তাদের আড্ডায়। শহীদুজ্জামান সেলিমের কথায়, "আমার বাসায় মাসুদ ভাইয়ের আসা-যাওয়া ছিল। আমার পরিবারের সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। কত রাত-দিন একসঙ্গে আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছি, তার হিসেব নেই।"


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *