• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড: গ্রহণযোগ্য নয়

পরিবেশ ধংসকারী কার্যকলাপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি দেশ। কিন্তু বনজঙ্গল, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত সবকিছু মানুষের ভাবনাশূন্য আচরণের কারণে কমে যাচ্ছে। সরকার বা সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর এখানে যে দায়িত্ব পালন করা উচিত, তা যথেষ্টভাবে করছে না। বরং কখনও কখনও তারা নিজেরাই পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে প্রচুর গাছ কাটা হচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনানুযায়ী, উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের শিরিরচালা এলাকায় অবস্থিত পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক গবেষণাকেন্দ্র ৪১টি কাঁঠাল গাছসহ মোট ৫৪টি গাছ কাটার পরিকল্পনা করেছে। গত বৃহস্পতিবার গাছ কাটার কাজ শুরুও হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মী এবং সংগঠনগুলো এই কাজের প্রতিবাদ করলেও কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে।

ইনস্টিটিউটের গাজীপুরের শিরিরচালা আঞ্চলিক কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে এই গাছগুলো অবস্থিত। সম্প্রতি ৪১টি কাঁঠালগাছ, ১টি শিমুল, ৯টি আমগাছ ও ৩টি তালগাছ জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করার জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে authorities। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০টি শর্ত সাপেক্ষে গাছগুলো জ্বালানি কাঠ হিসেবে নিলামে বিক্রি করা হবে। ১৬ অক্টোবর একটি নোটিশে স্বাক্ষর করেন ইনস্টিটিউটের ভাণ্ডার কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। এ থেকে স্পষ্ট যে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সচেতনভাবে গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, ”জাতীয়ভাবে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানানো হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে প্রায় শতবর্ষী গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত গাছগুলো বিক্রি করে পরিবেশের ক্ষতি করার পাশাপাশি অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে তালগাছ রোপনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এখানে পুরনো তালগাছ নিধন করা হচ্ছে। আমরা এই অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল চাই।” আমরা তাদের এই দাবি সমর্থন করি।

গাছ কাটার কাজ শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই গাছগুলো রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ”পরমাণু শক্তি কমিশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এই বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।” আমরা তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করি না। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে পারতেন যে, গাছ কাটার জন্য তাদের অনুমতি আছে কিনা। কিন্তু আমরা এমন কোনো কথা তার মুখ থেকে শুনিনি। কারণ গাছ কাটার ক্ষেত্রেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন যে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে কেউ কি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা ভেবে দেখা দরকার। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এটির নিন্দা জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *