• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

জনগণের ভোগান্তি দূর হোক

জনগণের ভোগান্তি দূর হোক

বিধানের ৫৯ নাম্বার ধারা অনুযায়ী, "নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের প্রতিটা প্রশাসনিক অংশের স্থানীয় শাসন দায়িত্ব দিতে হবে।" কিন্তু কথা হচ্ছে, আমাদের আগের সব সরকারই স্থানীয় শাসন ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে। কেউ চায়নি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে স্বতন্ত্র হোক।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার উত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় সরকার বা শাসন নামে আর কিছু নেই। আগেও কতটা ছিল, সেটাও প্রশ্নের ব্যাপার। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে না দেওয়া হলেও অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য পলাতক। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার সংস্থার অধীনে জনগণের দৈনন্দিন কাজগুলো করতে কষ্ট হচ্ছে।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, "রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন"-এর হিসেব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৭টি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ সংশোধনের জন্য আটকে পড়েছিল। এর মধ্যে ১৪২টি মৃত্যু নিবন্ধন এবং বাকিগুলি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে হামলার কারণে নিবন্ধন কাজ বন্ধ ছিল। নতুন করে কাজ শুরু করার পরেও আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমছে না।

কেবল জন্ম ও মৃত্যু সনদ নয়, আরও অনেক কাজের জন্য নাগরিকদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে যেতে হয়। কিন্তু আগস্টের উত্থানের পর সেই কাজ কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে, কোথাও খুব ধীর গতিতে চলছে। নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধার জন্য অনেক কাজ করে থাকে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলি। রাস্তা মেরামত, রাস্তায় আলো লাগানো, ঘরে ঘরে জঞ্জাল সংগ্রহ, নদী-নালা পরিষ্কার করা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ—অনেক এমন কাজ রয়েছে যা নিয়মিত করা না হলে বা সচল না রাখা হলে নানা রকম সমস্যা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থায় খণ্ডকালীন প্রশাসক নিয়োগ করেছে, যার মধ্যে জেলা প্রশাসকও আছেন। একজন খণ্ডকালীন প্রশাসকের পক্ষে সিটি কর্পোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাজ চালানো সম্ভব নয়। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বেশি দেরি হলেও সেটা বুঝতে পেরেছে। বুধবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)-এর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার সময় স্থানীয় সরকার, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের চারটি স্তরে খুব শীঘ্রই "পূর্ণকালীন" প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে সব স্থানীয় সরকার সংস্থায় এত বিপুল সংখ্যক প্রশাসক নিয়োগের মতো লোকবল কি সরকারের রয়েছে? যদি না থাকে, তাহলে উপদেষ্টার আশ্বাস শুধু আশ্বাসই রয়ে যাবে; জনগণের ভোগান্তি কমবে না। এ ক্ষেত্রে, জনগণকে এই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা উচিত সরকারের। পূর্ণকালীন লোকবল নিয়োগের পরেও দেখা যাবে তাঁরা কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। ফলে জনগণের ভোগান্তির অবসান ঘটবে না। স্থানীয় সরকারের বিষয়ে সরকারের একটি পরিষ্কার কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। সরকার অনেক বিষয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করলেও স্থানীয় সরকার নিয়ে কোনও কমিশন গঠন করা হয়নি। এতেই স্পষ্ট যে তারা স্থানীয় সরকার বা শাসনকে কতটা মূল্য দেয়।

স্থানীয় সরকারকে দুর্বল করে পৃথিবীর কোনো দেশেই গণতন্ত্র টেকসই হয়নি, বাংলাদেশেও সেটা আশা করা যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *