• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

নওগাঁয় প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে

নওগাঁতে প্রশাসন কে হস্তক্ষেপ করতে হবে

মানুষের টাকা সঞ্চয় করার প্রবণতা সহজাত। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মানুষের জীবনে এর বড়ো গুরুত্ব আছে। সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাকে লক্ষ্যবস্তু করে কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য সঞ্চয় ও সমবায় সমিতির নামে সংগঠন গড়ে তোলে। নওগাঁতে এমন কিছু সংগঠন সাধারণ মানুষের কাছে জমা টাকা হাতিয়ে নিয়ে হাজার হাজার মানুষকে নিঃস্ব করেছে। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা থাকলে এই ঘটনাগুলো ঘটতো না বলে মনে করেন নির্যাতিত গ্রাহকেরা।

সমবায় অধিদপ্তরের জেলা সমবায় অফিসে নিবন্ধন ছাড়া কোনো সমবায় সমিতি পরিচালনা করার সুযোগ নেই। নিবন্ধন পেলেও সমিতিগুলোকে নিয়মিত পরিদর্শন করা হওয়া দরকার। নওগাঁর ১১টি উপজেলায় নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা ১ হাজার ৬২০টি। এগুলোর মধ্যে ৪৫০টি সমিতি ঋণদানের কাজ করে। চলতি বছরে এরকম আটটি সমিতির উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তারা গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

শত শ সমিতির মধ্যে এক বছরে মাত্র আটটি সমিতির ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা ঘটলেও এ আটটি সমিতিতে ৫ হাজার গ্রাহকের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আমানত ছিল, যা এখন হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড়ো অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা জমানো হয়েছিল এই সমিতিগুলোতে। এসব টাকা হারিয়ে এখন অসংখ্য গ্রাহক নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এমনকি অনেক সরকারি কর্মচারীও তাদের পেনশনের টাকা হারিয়েছেন।

জেলা সমবায় কর্মকর্তার বক্তব্য, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযুক্ত সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ও থানায় একাধিক মামলা চলমান। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা উৎপাদনশীল কাজে না লাগিয়ে সমিতির কর্মকর্তারা জমিজমা বা বাড়ি-গাড়ি কিনেছেন, যার কারণে সমিতিগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সমিতিগুলোর ওপর তাদের তদারকি আরও বাড়ানো হবে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের মত, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমবায় কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এ ঘটনাগুলো ঘটছে। সমবায় সমিতিগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার আগে ভালো করে যাচাই-বাছাই করা দরকার ছিল। নিবন্ধন দেওয়ার পর সমবায় সমিতিগুলোকে পরিদর্শনও করা উচিত ছিল। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে।

আমাদের আশা, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *