• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করার আহ্বান

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের প্রয়োজন

জাতীয় পার্টির কর্মসূচির কারণে হওয়া প্রতিবাদ, জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও আগুন ধরানোর ঘটনা কেবল অযাচিত নয়, বিপজ্জনকও। আমরা আশা করেছিলাম যে গত জুলাই-আগস্টে ঘটা ছাত্র-জনতার উত্থানের কারণে রাজনীতি থেকে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু জাতীয় পার্টির কর্মসূচি প্রতিহত করার জন্য পুনরায় সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির অফিসে হামলার ঘটনা নিয়ে বিপরীতমুখী বক্তব্য এসেছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, শুক্রবারের কর্মসূচি সফল করার জন্য দলের নেতা-কর্মীরা দলীয় অফিসে জমা হয়েছিলেন। সেই সময়, লোকজনের একটি দল মিছিল নিয়ে এসে সেখানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। অন্যদিকে, "ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র, শ্রমিক, জনতা"র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জাতীয় পার্টির অফিস থেকে তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর হামলা হয়েছে।

দলীয় অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার জাতীয় পার্টি কর্তৃক আহূত সমাবেশকে ঘিরে আরেকবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। "ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র, শ্রমিক, জনতা"র ব্যানারে সেই সমাবেশকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

শুক্রবার, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন যে, তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে নন। বরং, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলের সময় তারাও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, যেকোনও মূল্যে শনিবার ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, "ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র, শ্রমিক, জনতা" নামের সংগঠনটিও একই জায়গায় একই সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়, যার কারণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতিতে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গতকাল রাজধানীর কাকরাইলসহ আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করে। এর ফলে, উভয় পক্ষই তাদের কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এই ঘটনার মাধ্যমে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গত জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। এই আন্দোলন পরবর্তীতে এক দফা দাবিতে রূপ নেয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কারণ হয়। কিন্তু সেই সময় "ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র, শ্রমিক, জনতা" নামে আলাদা কোনও সংগঠনের তৎপরতা দেখা যায়নি। এই দুটি সংগঠনের মধ্যে সম্পর্ক কী, তাও আমরা জানি না।

ছাত্র-জনতার উত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, "বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ফলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফোরামের সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে জাতীয় পার্টির কর্মসূচি নিয়ে আমাদের আপাতত কোনও কর্মসূচির চিন্তা নেই।"

যে সংগঠনটি ছাত্র-জনতার উত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই সংগঠনকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় পার্টির অফিসের দিকে কর্মসূচির আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা যখন জাতীয় পার্টির কর্মসূচি নিয়ে "আমাদের কোনও কর্মসূচি নেই" বলে ঘোষণা করেছেন, সেখানে অন্য কোনও সংগঠনের কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কেউ যাতে কর্মসূচি পালন করতে না পায় সে জন্য বাধা দেওয়া, প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া বা এই ধরনের বক্তৃতা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ক্ষেত্রে, রংপুরে দুই ছাত্রনেতার কর্মসূচিকে ঘিরে জাতীয় পার্টির অযাচিত ঘোষণারও নিন্দা করা উচিত। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে, প্রত্যেকেই তাদের অবস্থান থেকে কর্মসূচি পালন করবে। প্রতিপক্ষের কর্মসূচিকে বাধা দেওয়া বা অযাচিত ঘোষণা করা একটি অগণতান্ত্রিক মানসিকতা, যা সবারই পরিহার করা উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *