• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবী

ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হাত

গ্লোবাল ওয়ার্মিং আর ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হইছে আমাদের দেশ বাংলাদেশ। লাগাতার ভারী বৃষ্টি, অস্বাভাবিক গরম আর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় এগুলো এর সাক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের এই আক্রমণ প্রতিরোধ করার একটা উপায় হচ্ছে সবুজকরণ। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ বিষয়ে আমাদের সচেতনতা ও আগ্রহ কম। এর ওপর আবার আইন ভাঙার প্রবণতা অনেক বেশি। ফলে বনভূমি দেখলেই তা কেটে দখল করে নেওয়াকে কেউ কেউ স্বাভাবিক ব্যাপার মনে করছে।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গাজীপুরে বনের জমি দখল এবং দখল করা জমির ওপর ব্যবসা শুরু করেছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দু’মাসে দখল হয়েছে দুই মাসে দখল হয়েছে বনের 7.5 হাজার একর জমি। এর মধ্যে 3.5 হাজার একর জমির বন উজাড় করে সেখানে তৈরি করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা।

প্রশ্ন হচ্ছে, যদি দু’মাসেই 7.5 হাজার একর বনভূমি দখল করা হয়, তাহলে এই গতিতে দখল চলতে থাকলে গাজীপুরের বন উজাড় হতে কতদিন সময় লাগবে? ভূমিদস্যুরা এতটাই উচ্ছৃঙ্খল যে বন বিভাগের কর্মীরা কয়েকবার বাধা দিলেও অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা থেকে বিরত থাকেননি তারা। বন বিভাগের লোকজন অবৈধ এসব স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন।

বনের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরাও। দখল করা জমিতে কেউ মার্কেট বানাচ্ছেন, কেউ বাড়িঘর বানাচ্ছেন, আবার কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ভাড়া দিচ্ছেন। গত দু’মাসে এসব দখলদারের বিরুদ্ধে 41টি মামলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ আসামি না ধরার কারণে ভূমিদস্যুরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।

2000 সালের জরিপ অনুযায়ী, গাজীপুর জেলায় বনভূমির পরিমাণ ছিল 39 হাজার 943 হেক্টর অথবা 23 দশমিক 44 শতাংশ। 2023 সালে বনভূমির পরিমাণ এসে দাঁড়ায় মাত্র 16 হাজার 174 হেক্টরে বা 9 দশমিক 49 শতাংশে। গত দু’ মাসে 7.5 হাজার একর বনভূমি দখল হলে, এখন বনের পরিমাণ কতটুকু দাঁড়াল? এমন একটি বনভূমি সমৃদ্ধ জেলার অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে বাকি দেশের পরিস্থিতি কি, তা সহজেই অনুমান করা যায়। কাগজে-কলমের হিসাবে বাংলাদেশের মোট আয়তনের কতটুকু বনভূমি অবশিষ্ট আছে?

দু’মাসে 7.5 হাজার একর জমি দখল হলেও যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাত্র 6 একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এটাকে পর্বতে মূষিক প্রসব ছাড়া আর কী বলা যায়। ভূমিদস্যুদের কবল থেকে যেকোনো মূল্যে বনের জমি উদ্ধার করতে হবে। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *