• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন |

ডিমের উপকারিতা ও অপকারিতা – প্রতিদিন খাওয়া কি সুস্থ?

প্রতিদিন ডিম খাওয়া ভালো নাকি খারাপ?

আধুনিক ডায়েটে ‘সুপারফুড’ শব্দটা অনেক পরিচিত। আর এই সুপারফুডের তালিকায় সবার ওপরেই থাকে ডিম। কারণ এর মধ্যে উচ্চমানের প্রোটিন, নানা রকমের ভিটামিন, মিনারেল ও শরীরের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান থাকে। তবে অনেক সময় এই ডিম itself ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিন কি ডিম খাওয়া যাবে? চলুন আজকে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী? প্রতিদিন ডিম খাওয়া ভালো, নাকি খারাপ?

একটি বড় আকারের ডিমের মধ্যে প্রায় 78 ক্যালরি, 6 গ্রাম প্রোটিন আর 5 গ্রাম চর্বি থাকে। এছাড়াও এতে ভিটামিন A আছে প্রায় 8%, ফোলেট 6%, ভিটামিন B5 বা প্যানটোথেনিক অ্যাসিড 15%, ভিটামিন B12 23% এবং ভিটামিন B2 প্রায় 20%। এর সঙ্গে আপনি পাবেন ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ভিটামিন D, ভিটামিন E, ভিটামিন B6, ক্যালসিয়াম আর জিঙ্কও। এখন বেশিরভাগ ডিমের মধ্যেই ওমেগা-3ও যুক্ত করা হয়।

ডিমের কুসুমে লুটিন আর ক্যারোটিনয়েড থাকায় বয়স্কদের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার আশঙ্কা যথেষ্ট কমে। এ ছাড়াও ভিটামিন A চোখের জন্য খুবই উপকারী। ডিমের মধ্যে ফোলেট, ভিটামিন B6 আর ভিটামিন B12 আছে প্রচুর পরিমাণে, যা শরীরে রক্তশূন্যতা হতে দেয় না। ভিটামিন E অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে, যা আমাদের শরীরকে তরুণ রাখতে সাহায্য করে এবং নানা রকমের ক্যানসার প্রতিরোধ করতেও উপকারী। এছাড়াও ডিমে থাকা ভিটামিন D আমাদের হাড় আর পেশিকে করে অনেক শক্ত।

অনেকের মনে প্রশ্ন আছে, ডিমের মধ্যে কি কোলেস্টেরল আছে? কোলেস্টেরল থাকার কারণে কি ডিম খাওয়া উচিত? ডিমের কুসুমে প্রায় 186 মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যার মধ্যে বেশিরভাগই হলো HDL বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’। আমাদের শরীরে প্রতিদিনের চেয়ে বেশি কোলেস্টেরলের প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিদিন এক বা দুইটা ডিমের কুসুম খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং উপকার হয়।

ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণ অ্যালবুমিন আর শরীরের জন্য অপরিহার্য এমন কিছু এমিনো অ্যাসিড থাকে, যা আমাদের পেশি তৈরি করতে, ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম অন্যতম সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে সস্তাও।

তবে এতো কিছু বলার পরেও এর মধ্যে কিছু খারাপ দিকও আছে। এই ডিমের সঙ্গে যদি আমরা প্রাণীজ চর্বি যোগ করি (যেমন মাখন বা ঘি), তাহলে এর ক্যালরি অনেকটা বেড়ে যায়। আর এই বেশি ক্যালরি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়। তাই ডিম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেদ্ধ করে বা অলিভ অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলে রান্না করা ডিম খাওয়া।

কিডনি রোগীদের প্রোটিন একটু হিসাব করে খেতে হয়। তাই কিডনি রোগীরা দিনে একটির বেশি ডিম খেতে পারবেন না। এছাড়াও অনেকেরই ডিমে অ্যালার্জি থাকে। অ্যালার্জি থাকলে ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

কথাটা একবারেই সত্যি যে, ডিমের খারাপ দিকের চেয়ে ভালো দিকটাই বেশি। তাই প্রতিদিন নাশতায় একটা ডিম অবশ্যই থাকা উচিত।

লেখাটি লিখেছেনঃ ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, মেডিসিন স্পেশালিস্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *