• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন |

ভিনেগার পানে প্রতিদিনের ৫ টি অভিশাপ

প্রতিদিন ভিনেগার খেয়ে পাওয়া যায় ৫টি উপকার

বর্তমানে রান্নায় ভিনেগার খুব সাধারণ। তবে ভিনেগার কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় তা না, এটি শরীরের জন্যও ভালো বিভিন্ন উপকারী উপাদান যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও খনিজ লবণ আছে। সব মিলিয়ে ভিনেগারের গুণ বেশ অনেক। বিভিন্ন ফল গাঁজন বা ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় এই উপকারী তরলটি তৈরি করা হয়। নিয়মিত ভিনেগার খেলে কিছু গুরুতর রোগও প্রতিহত হয়।

চর্বি জমতে বাধা দেয়
খাবার খাওয়ার আগে বা খাওয়ার সময় সামান্য পরিমাণ ভিনেগার, বিশেষ করে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের (এলডিএল) মাত্রা কমে। শরীরে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমতে দেয় না এটি। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

রক্তে শর্করা বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
শরীরে ইনসুলিনের সামঞ্জস্য রক্ষা করে ভিনেগার। মেডিসিন নেটে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভিনেগার বেশ কার্যকর।

ক্ষুধা নষ্ট করে
ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ভিনেগারের সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও, অনেকের দাবি, ভিনেগার রুচি কমিয়ে এবং হজম সহজ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওয়েবমেডের গবেষণা অনুযায়ী, দিনে একবার ১ থেকে ২ চা চামচ ভিনেগারই সারাদিনের ক্ষুধা দূর করে দিতে পারে।

মাসিক চক্র স্বাভাবিক করে
নারীদের অনিয়মিত মাসিক চক্রের একটি সাধারণ কারণ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পিসিওএস। এই রোগে এলএইচ (লুটিনাইজিং হরমোন) থেকে এফএসএইচ (ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন) এর অনুপাত ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ভিনেগার খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক।

জীবাণু ও প্রদাহ রোধ করে
শরীরের প্রদাহ দূর করে ভিনেগার। বিভিন্ন ক্ষতিকারক জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে এটি। এর অম্লীয় বৈশিষ্ট্য পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়া সহজ করে। হজম সহজ হয়। তাই নিয়মিত ভিনেগার খেলে ত্বক এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো হয়।

কীভাবে খাবেন

ভিনেগার খুবই অম্লীয়। এর পিএইচ মান ২-৩। তাই সরাসরি না খেয়ে পানি, সালাদ বা অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।

বাজারে সাধারণত দুই ধরনের ভিনেগার পাওয়া যায়। পানির মত সাদা ভিনেগার এবং গাঢ় লালচে রঙের অ্যাপল সাইডার ভিনেগার। অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের অম্লীয় মাত্রা সাদা ভিনেগারের চেয়ে কম। তাই উল্লিখিত উপকারগুলি পাওয়ার জন্য প্রতিদিন ১-২ চা চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার খেতে পারেন। সালাদের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের পরিবর্তে সাদা ভিনেগার খেতে চাইলে সঙ্গে পানি, অন্য ফলের জুস বা সালাদ মিশিয়ে খান।

রাতে ঘুমানোর আগে ঠাণ্ডা বা গরম পানির সঙ্গে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন।

শরীরে প্রদাহ, ঠাণ্ডা-কাশি দূর করতে মধুর সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে খান।

কে কারা খাবেন না

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, গ্যাস্ট্রোপেরেসিস এবং আলসারের সমস্যা থাকলে ভিনেগার খাওয়া যাবে না। এছাড়াও বুকে জ্বালাপোড়া করলে, পেটে ফোলা ভাব হলে এবং বমি বমি ভাব হলে ভিনেগার খাওয়া যাবে না।

ভিনেগার খেলে গলায় জ্বালা হলে আবার ভিনেগার খাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে ভিনেগার খাওয়া যাবে না।

অন্য কোনো ওষুধ চলছে, সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভিনেগার খাওয়া উচিত নয়।

কয়েকটি সাবধানতা

প্রতিদিন ২ টেবিল চামচের বেশি খাবেন না।

পানি, সালাদ বা অন্য কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে খান।

ভিনেগারের অ্যাসিডিক লেভেল দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। তাই তরলের সঙ্গে মিশিয়ে খান। সম্ভব না হলে ভিনেগার খাওয়ার পর ভালো করে কুলকুচি করুন।

শিশুদের খাবারে ভিনেগার দেওয়া যাবে না।

তথ্যসূত্র: মেডিসিন নেট, হেলথ লাইন, ওয়েবমেড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *