• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বিকল্প জমি থাকতেও কেন ভবনের নির্মাণ

বিকল্প জমি থাকতেও কেন মাঠের উপর ভবন নির্মাণ?

আমাদের শহরগুলো দিন দিন মাঠশূন্য হয়ে পড়ছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও যে মাঠ আছে, সেগুলোই এখন আমাদের ভরসা। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জনসংখ্যা চাপের কারণে সেই কয়েকটি মাঠও যথেষ্ট নয়। আর যখন এসব মাঠের উপর আঘাত আসে, তখন নাগরিক সমাজের উচিত সোচ্চার হওয়া। তেমনটাই ঘটেছে সরকারি বরিশাল কলেজের মাঠ নিয়ে। স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে এই মাঠে কলেজ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বরিশাল কলেজের এই মাঠ শুধুমাত্র একটি জনপরিসর হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর একটি ঐতিহাসিক মূল্যও রয়েছে। এই অঞ্চলের শিক্ষানুরাগী, দানবীর ও ভারতবর্ষের মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম সংগঠক অশ্বিনীকুমার দত্তের বাসভবনেই আজকের বরিশাল কলেজ গড়ে উঠেছে। ১৯৯১ সালে কলেজের উন্নয়নের নামে কলেজ কর্তৃপক্ষ অশ্বিনীকুমারের মূল বাসভবনটি ভেঙে ফেলে। কলেজের একটি পুকুরকেও কয়েকবার ভরাট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নগরবাসীর প্রতিবাদের কারণে কর্তৃপক্ষ আর পুকুরটি ভরাট করতে পারেনি। কিন্তু এখন নগরবাসীকে কলেজের মাঠ রক্ষার আন্দোলনে নামতে হয়েছে।

সোমবার শহরের অশ্বিনীকুমার হল চত্বরে কলেজের মাঠ রক্ষার জন্য আয়োজিত কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এই মাঠ মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্তের স্মৃতিবিজড়িত। তা ছাড়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য মাঠ দরকার। নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে মাঠ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করে সেখানে ভবন নির্মাণ করছে। এমনকি গত জুলাই মাসে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে কলেজের পূর্ব দিকে বিকল্প জমিতে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে সেই সিদ্ধান্তও উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই কারণে কলেজের একমাত্র খেলার মাঠ নষ্ট করার এই পরিকল্পনা থেকে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলী হোসেন হাওলাদার বক্তব্য দিয়েছেন, ‘অনেক কষ্ট করে এই ভবন নির্মাণের বরাদ্দ আনতে হয়েছে। সৌন্দর্য কেউ নষ্ট করতে চায় না। কিন্তু এত বড় ভবন করার মতো কলেজের জায়গা নেই। কলেজটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। তাই এই স্থানে ভবন নির্মাণ না করার কোনো বিকল্প নেই।’

নাগরিক সমাজের দাবি, মাঠটি যাতে অক্ষত থাকে এবং কলেজ ভবনও যাতে নির্মিত হতে পারে, সেই রকম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। পূর্ব দিকের জমিটি কিছুটা ছোট হলেও সেখানে ভবন নির্মাণ সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ভবনটি ওপরের দিকে একতলা বাড়াতে হবে। আমরা আশা করব, নাগরিক সমাজের দাবির ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হবে। তা ছাড়া তাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, তারা আইন ভঙ্গ করছে। এখন তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *