• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

৭ নভেম্বরের ঘটনাবলী: ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ

৭ নভেম্বর: যখন রাজনীতির দিশা বদলে গেলো

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ বদলে যায়।

স্বাধীনতার পরের সময়ে, ৭ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিলো অস্থির। একদিকে রক্ষীবাহিনী ও পুলিশের অত্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নামে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

এছাড়াও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিলো শোচনীয়। ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। কারণ, দুর্ভিক্ষের সময়ও শাসকগোষ্ঠীর আচরণ ও বিলাসবহুল জীবনধারা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে। এই সব কিছু মিলে বাংলাদেশ যেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যাচ্ছিলো।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। ওই সময়ে দেশ পরিচালনার জন্য কোনো একক নেতৃত্ব ছিলোনা। এতে নানা রকম সংকট দেখা দিতে থাকে। এর পরই ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান এবং ৭ নভেম্বরের ঘটনা ঘটে। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৭ নভেম্বর দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যায়।

৭ নভেম্বরের প্রথম দিকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি লড়াই শুরু হয়। প্রথমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ ক্ষমতার দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে বঙ্গভবনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর জাসদের কর্নেল তাহের খালেদ মোশাররফকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিপাহিরা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতায় তুলে দেয়। এরপর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন।

এ ঘটনার শুরুতে জিয়াউর রহমান ছিলেন আটক, চাকরি হারানো একজন সাধারণ জেনারেল। কিন্তু জনগণের কাছে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। কর্নেল তাহের এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন। তিনিও পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু বিপ্লবের মাঠে নামার পর তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনিও খালেদ মোশাররফের মতোই জনসমর্থনহীন।

অন্যদিকে, ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে উদার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি নতুন কর্মসূচি নিয়ে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। মূলত জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশের নতুন একটি যুগের সূচনা হয়। ৭ নভেম্বরই জিয়াউর রহমানকে এই সুযোগ করে দিয়েছে।

৩ থেকে ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের তৎকালীন পরিস্থিতি ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেননি। তাদের গণনায় ভুল ছিলো। এমনকি সামরিক বাহিনীর ভিতরে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে তারা কোনো ধারণাই করতে পারেননি।

খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেও তিনি পুরো সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে পারেননি। অনেক উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাই নীরব ছিলেন অথবা সরাসরি খালেদ মোশাররফকে সমর্থন দেননি। সামরিক বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য খালেদ মোশাররফের পক্ষে থাকলে কর্নেল তাহেরের পাল্টা অভ্যুত্থানে তার পালিয়ে যেতে হতো না। তিনি প্রতিরোধও করতে পারতেন। এছাড়াও খালেদ মোশাররফের রাজনৈতিক সমর্থন ছিলোনা। অনেকে মনে করতেন, তিনি বাকশালের শাসন ফিরিয়ে আনবেন। ভারতের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কর্নেল তাহের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। কিন্তু কর্নেল তাহেরেরও খালেদ মোশাররফের মতো সামরিক বাহিনী এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ভিত্তি ছিলোনা। কর্নেল তাহের প্রকৃতপক্ষে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা নিজের দখলে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি জিয়াউর রহমানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের দৃশ্যপট থেকে সরে যান এবং খালেদ মোশাররফ নিহত হন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, খালেদ মোশাররফ কীভাবে নিহত হয়েছেন। এর উত্তর নিয়ে নানা মত আছে। তবে ওই সময়ের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, তিনি কর্নেল তাহের সমর্থক বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন। কারণ, ওই সময় জিয়াউর রহমান মু


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *