• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন |

চেলসি’র কাছে ৮ গোল হজম, বাইবেলের চরিত্রে ক্লাব নামের দলটি হারের স্বাদ পেল

বাইবেলের চরিত্রের নামানুসারে ক্লাবের নাম, চেলসির কাছে 8 গোল খেল নোয়া

সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়রা জার্সি পরে মাঠে নামে। কিন্তু স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে গতকাল সন্ধ্যায় একেবারে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখা গেল। সেখানে এফসি নোয়ার খেলোয়াড়রা ফর্মাল স্যুট পরে মাঠ ঘুরছিল এবং ভিডিও ও ছবি তুলছিল।

না জানি, চেলসির এই মাঠে আবার আসার সুযোগ হবে কি না—যদিও অল্প কিছুক্ষণ পরেই তাদের চেলসির মুখোমুখি হতে হবে। কেবল এই ম্যাচই নয়, চেলসির মাঠে খেলতে নামাটাই ছিল নোয়ার খেলোয়াড়দের কাছে যেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত!

তবে এরপরই তাদেরকে বাস্তবে ফিরতে হল। উয়েফা কনফারেন্স লিগের এই ম্যাচে, আর্মেনীয় ক্লাবটি চেলসির কাছে 8-0 গোলে বিধ্বস্ত হল। কনফারেন্স লিগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির এটিই সবচেয়ে বড় জয়।

প্রথমার্ধে দ্বিতীয় সারির দলকে মাঠে নামিয়ে চেলসি 6-0 গোলে এগিয়ে গেল। তবে কনফারেন্স লিগে নিজেদের আগের তিনটি ম্যাচেও তারা দ্বিতীয় সারির দলকে খেলিয়ে জয়লাভ করেছে এবং সেগুলোতে মোট 16টি গোল করেছে।

ক্লাবটির ইতিহাসে গত রাতের জয়টি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। 1971 সালে, কাপ উইনারস কাপে, চেলসি লুক্সেমবার্গের ক্লাব জিউনেস হাউকারেজকে 13-0 গোলে হারিয়েছিল।

উয়েফার ইউরোপিয়ান ক্লাব র্যাঙ্কিংও দুটি দলের মধ্যকার শক্তির পার্থক্যকে পরিষ্কার করে দেয়। চেলসি অষ্টম স্থানে, যখন নোয়া 311 তম স্থানে। তাই ম্যাচের স্কোরকার্ড দেখে তেমন আশ্চর্য হওয়ার কথা নয়।

চেলসির মোট ছয়জন খেলোয়াড় গোল করেছে। জোয়াও ফেলিক্স ও ক্রিস্তোফার এনকুনুর দুটি করে গোল করেছে। এনকুনকু যদি বল পোস্টে না মারতেন, তাহলে তিনি হ্যাটট্রিক পেতেন।

2017 সালে গড়ে ওঠা এফসি নোয়া আর্মেনিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব। প্রথম কোয়ালিফাইংয়ে অংশ নেওয়া 50টি ক্লাবের মধ্যে কেবল তারাই প্লে-অফে উঠে আসে।

আর্তশাখ নামে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবের নাম ও মালিকানা পাল্টায় 2019 সালে। বাইবেলের চরিত্র নোয়ার নামে এই ক্লাবের নামকরণ করা হয়। এর আগে, নোয়া কখনোই ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতায় খেলে নি। চেলসির বিপক্ষে এই ম্যাচটিকে আর্মেনিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

মাঠে নামার আগে নোয়ার পর্তুগিজ কোচ রুই মোতা বলেন, "ইউরোপীয় পর্যায়ে নিজেদেরকে পরিচয় করার জন্য কনফারেন্স লিগটা দারুণ এক সুযোগ। কারণ, এখন সবাই নোয়ার কথা জানে। এই ম্যাচটি ক্লাব, ভক্ত এবং আর্মেনীয় ফুটবলের জন্য অত্যন্ত বিশেষ।"

নোয়া আর্মেনিয়ার তিনটি স্টেডিয়ামে তাদের ম্যাচগুলো খেলে। বিবিসি জানিয়েছে, বাইবেলের চরিত্রটির নামানুসারে ক্লাবটির নামকরণ করা হয়েছে, কারণ ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, মহাপ্লাবনের পর নোয়ার নৌকা আরারাত পর্বতে থেমেছিল। আর্মেনিয়ার একটি বড় অংশ এই অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। চতুর্থ শতকে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে খ্রিষ্ট ধর্মকে নিজেদের অফিশিয়াল ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল আর্মেনিয়া।

দেশটির রাজধানী ইয়েরেভেনের সংবাদমাধ্যম মিডিয়াম্যাক্স মিডিয়া কোম্পানির প্রধান সম্পাদক দাভিত আলাভেরদিয়ান বলেছেন, "আর্মেনিয়ার একটি বড় অংশ আরারাত উপত্যকার অন্তর্ভুক্ত। তাই আরারাত, নোয়া ও নৌকা আর্মেনীয়দের কাছে পবিত্র।"

উল্লেখ্য, মহাপ্লাবন ও নৌকার ঘটনা ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ পবিত্র কোরআনেও বর্ণিত হয়েছে। সেখানে ঘটনার মূল চরিত্রের নাম ইসলামের দ্বিতীয় নবী ‘নূহ’ এবং কোরআনে একটি সুরাও আছে যেটির নাম ‘নূহ’।

পর্তুগিজ কিংবদন্তি লুইস ফিগোর সঙ্গেও এফসি নোয়ার যোগ রয়েছে। ক্লাবটির বর্তমান মালিক ভার্দেস ভারদানিয়ান এ নিয়ে বিবিসি স্পোর্টকে বলেছেন, "এই প্রজেক্ট তৈরিতে লুইস ফিগো শুরু থেকেই সমর্থন করেছে এবং সাহায্য করতে চেয়েছে। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে এবং আমরা ক্লাবের উন্নতি সম্পর্কে আলোচনা করি। নোয়ার তরুণ প্রতিভাদের বিকাশ ঘটাতে লুইস ফিগোকে নিয়ে আমাদের বড় পরিকল্পনা আছে।"


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *