• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন |

সীমান্ত টহল নিয়ে একমত চীন-ভারত

ভারত-চীনের মধ্যে সীমান্তে টহল নিয়ে সমঝোতা

ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্তে টহল নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা’ নামে পরিচিত সীমান্তে দুই দেশের সেনারা এখন সেই সব এলাকায় টহল দিতে পারবে, যেখানে তারা ২০২০ সালের সংঘর্ষের আগে টহল দিত। এ কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

এই সমঝোতার ফলে আগামী দিনে সেনা প্রত্যাহারের পথ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন মিশ্রি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগামীকাল রাশিয়ায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্রসচিবের এই ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদিও, পররাষ্ট্রসচিব স্পষ্ট করেননি যে, এই সমঝোতার ফলে সীমান্ত সংঘাতের আগে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কোন অবস্থানে ছিল, সেখানে তারা ফিরে যাবে কি না। সেই সঙ্গে টহলের জন্য তৈরি ‘বাফার জোন’ এর কী হবে, তাও স্পষ্ট করেননি।

২০২০ সালের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে বহু হতাহত হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সংঘর্ষের আগে থেকেই চীনের সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডের অনেকটাই দখল করে নিয়েছিল।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, লাদাখের প্রায় দুই হাজার বর্গ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চীন দখল করেছে। লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সংসদে বিতর্কের দাবিও এখন পর্যন্ত সরকার মেনে নেয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের লাদাখের পরিস্থিতি দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার আবেদনও মেনে নেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের আগে বিশেষ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারত ও চীন কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে। সেই আলোচনার ফলেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় টহল নিয়ে দুই দেশের এই সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতার ভিত্তিতে সেনা প্রত্যাহার ও ২০২০ সালে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলি এড়ানো সম্ভব হবে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে যে, ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় টহল নিয়েই সমঝোতা হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার স্থিতিরক্ষা নিয়ে ২০২০ সাল থেকে দুই দেশের সেনা পর্যায়ে ২০টি বৈঠক হয়েছে। ডেপসাং ও ডেমচক নিয়ে দুই দেশ তারপরও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। যদিও, পররাষ্ট্রসচিব স্পষ্ট করে বলেননি যে, কী কী এলাকায় টহল নিয়ে দুই দেশে সমঝোতা হয়েছে।

রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে পররাষ্ট্রসচিব পরিষ্কার কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *