• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন |

অতিরিক্ত রাগের শারীরিক ক্ষতি বোঝার জন্য

অতিরিক্ত রাগের শারীরিক ক্ষতি

রাগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। কিন্তু অতিরিক্ত রাগ আমাদের শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলে। হঠাৎ রাগের কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আজকে জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত রাগ কিভাবে আমাদের শারীরিক ক্ষতি করে-

যখন আমরা হঠাৎ রাগান্বিত হই, তখন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মত স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়। এগুলো রক্তনালীকে সরু করে ফেলে, যার কারণে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে আমাদের দ্রুত শ্বাস ও উচ্চ রক্তচাপ হয়, হৃৎপিণ্ডের উপর চাপ পড়ে এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়। যখন হৃদয়ে রক্ত সরবরাহ কমে যায়, তখন হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রেগে থাকলে, ধমনি স্থায়ীভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দশ গুণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রাগি মানুষের আরোগ্য হওয়ার হার অনেক ধীর।

রাগ ও মানসিক চাপ রক্তনালীতে প্লেটলেটকে জমা হতে প্রভাবিত করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত রাগের কারণে নার্ভের উপর চাপ পড়ে, যা ইন্টারলিউকিন-৬ এর মত কিছু রাসায়নিক নিঃসরণ করে যা রক্তনালীর প্রদাহের জন্য দায়ী। এই প্রদাহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। অজান্তেই রাগি মানুষ তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে।

অতিরিক্ত রাগের কারণে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়, যা পেটের অন্ত্র ও মাংসপেশির চেয়ে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বেশি করে। পেটে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে পেটব্যথা, পেট খারাপ, ডায়রিয়া হয়। আইবিডির অন্যতম প্রধান কারণ এই অতিরিক্ত রাগ বা স্ট্রেস।

যখন রাগ হয়, আমরা কোনো কিছুর দিকে মনযোগ দিতে পারি না। এছাড়াও, এ কারণে অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার, ঝগড়াঝাঁটি, অনেক সময় মারামারিও ঘটতে পারে। এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং এ থেকে মানসিক বিষণ্ণতা, ক্লান্তি, অনিদ্রা এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে যায়।

অনেক লোক রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ধূমপান, মদ্যপান বা বেশি খাওয়ার মতো কিছু খারাপ অভ্যাস গড়ে তোলে। পরে এগুলো স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অতিরিক্ত রাগ নিয়ে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ, এ সময় চালক মনোযোগ রাখতে পারেন না বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন। অতিরিক্ত রাগ মানুষের আয়ুও কমিয়ে দেয়।

তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন।
ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *