• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন |

রাষ্ট্রপতির আগমন-নির্গমন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের ভবিষ্যৎ এখন টু বি এবং নট টু বির মধ্যে আটকে। সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁকে সরে যেতে হবে। কিন্তু কীভাবে সরে যাবেন, তিনি দাবির মুখে পদত্যাগ করবেন, নাকি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

আন্দোলনকারী কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম তাঁর পদত্যাগের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। উপদেষ্টারা দৌড়ঝাঁপ করছেন। বিএনপির প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ‘সাংবিধানিক সমস্যা তৈরি হয় এমন কিছু করা যাবে না।’

পদত্যাগপত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতির বিদায় নেওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এর আগে আরো ২২ জন রাষ্ট্রপতি ছিলেন। দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া তাঁদের সকলেরই বিদায় হয়েছে বিষণ্ন ও করুণ সুরে। যদিও সকলেই আনন্দঘন পরিবেশে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

আমাদের দুজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হত্যার শিকার হয়েছেন, একাধিক রাষ্ট্রপতি অপমানজনকভাবে বিদায় নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি প্রথম দফায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই পদে ছিলেন (স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী)।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশে ফিরে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদউল্লাহ। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল করে একদলীয় রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির শাসন জারি করেন এবং নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একই বছরের ১৫ আগস্ট এক রক্তাক্ত সেনা অভ্যুত্থানে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হন। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন ফারুক-রশীদসহ একদল তরুণ সেনা কর্মকর্তা এবং তাঁরা নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেন খন্দকার মোশতাক আহমদকে।

খন্দকার মোশতাক আহমদের শাসনও ছিল অস্থায়ী। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান হলে ৬ নভেম্বর মোশতাককে পদত্যাগ করতে হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে।

সেটা ছিল সামরিক শাসনকাল। ফলে সংবিধানের বাধ্যবাধকতা ছিল না। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জিয়াউর রহমান নিজেই এই পদে বসেন এবং সায়েমকে পদত্যাগে বাধ্য করেন।

এরপর জিয়া সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।

১৯৮৬ সালের ২৩ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে এরশাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। গণ-অভ্যুত্থানে নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত এরশাদ রাষ্ট্রপতি পদে বহাল ছিলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মত্যেক্যের ভিত্তিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে গঠিত হয় প্রথম অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪৬টি আসন পেয়ে জামায়াতের সহায়তায় সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগ জোট ১০০ আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসে। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। ওই দিন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

আবদুর রহমান বিশ্বাসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি হয়ে আসেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। প্রথম দিকে সরকারের সঙ্গে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন চললেও কর্মসম্পর্ক মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু ২০০১-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

ওই বছরের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল ছিলেন। একই দিন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের কারণে ২০০২ সালের ২১ জুন তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।

এর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *